বর্ণিল আয়োজনে পর্দা উঠল ২০২৬ বিশ্বকাপের
আলো-ঝলমলে আয়োজন, বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা, মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রদর্শন এবং হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে শুরু হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আস্তেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো তিন দেশ, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে এস্তাদিও আস্তেকা স্টেডিয়াম। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপেরও উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ভেন্যুতে।
প্রায় আধাঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ফুটবল ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় নাচ, গান ও আধুনিক আলোকসজ্জার মাধ্যমে। মাঠজুড়ে তৈরি করা হয় বিশেষ মঞ্চ। সেখানে অংশ নেন শতাধিক শিল্পী ও পরিবেশক।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বার্না বয়। তারা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সংগীত ‘দাই দাই’ পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো সমর্থকের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি মানুষ টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষভাগে ছিল মনোমুগ্ধকর আতশবাজির প্রদর্শনী। রঙিন আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে মেক্সিকো সিটির আকাশ। আয়োজকদের মতে, এই আয়োজন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সূচনা নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
অনুষ্ঠান শেষে মাঠে গড়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এক মাসব্যাপী ফুটবল মহাযজ্ঞ। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপের।
এবারের বিশ্বকাপে তিন স্বাগতিক দেশের ১৬টি শহরের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন সেদিকেই।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...