বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

বিস্ময় বালক ইয়ামালের কাছে দুরন্ত এমবাপ্পের হার

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

স্পেন ২-০ ফ্রান্স

যুদ্ধটা ছিল দুই প্রজন্মের। একদিকে বিশ্বকাপজয়ী সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। ডালাসের সেমিফাইনাল শেষে বিজয়ীর হাসি ফুটল তরুণ স্প্যানিশ তারকার মুখেই। এমবাপ্পের গতি, দেম্বেলের বিস্ফোরক আক্রমণ আর ফ্রান্সের তারকাখচিত শক্তিকে ছাপিয়ে শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নিখুঁত কৌশলের ফুটবল খেলল স্পেন। ফল, ২-০ গোলের দাপুটে জয়। বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল লা রোহা, আর টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভেঙে গেল ফ্রান্সের।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়, দুই দর্শনেরও লড়াই। ফ্রান্স চেয়েছিল গতি দিয়ে ম্যাচ ভেঙে দিতে। স্পেন চেয়েছিল বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করতে। প্রথম কয়েক মিনিটে এমবাপ্পে ও দেম্বেলে কয়েকটি দ্রুত আক্রমণ তুললেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ তাদের কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।

ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্পেনের হাতে। মাঝমাঠে রদ্রির নেতৃত্বে বলের দখল বাড়তে থাকে। ছোট ছোট পাসে ফ্রান্সের প্রেসিং ভেঙে দেয় স্প্যানিশরা। আর সেই ছন্দের কেন্দ্রে ছিলেন ইয়ামাল। কখনও ডান প্রান্তে, কখনও মাঝমাঠে নেমে এসে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলছিলেন তিনি।

২২তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই বিস্ময় বালক। তার দারুণ ড্রিবলিং ঠেকাতে গিয়ে বক্সের ভেতরে ফাউল করেন ফরাসি ডিফেন্ডার। ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে মিকেল ওইয়ারসাবাল কোনো ভুল করেননি। জোরালো শটে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

গোল হজমের পর ফ্রান্স মরিয়া হয়ে ওঠে। এমবাপ্পে বারবার বাম দিক দিয়ে উঠে আসেন, দেম্বেলে গতি বাড়ান, অলিসে দূরপাল্লার শটে ভাগ্য পরীক্ষা করেন। কিন্তু প্রতিবারই সামনে ছিল স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। কখনও গোলরক্ষকের দৃঢ়তা, কখনও শেষ মুহূর্তের ট্যাকল, কখনও ভুল ফিনিশিংয়ে হতাশ হতে হয় ফরাসিদের।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার সব চেষ্টা চালায় দিদিয়ের দেশমের দল। কিন্তু অতিরিক্ত আক্রমণই তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে। ৫৮তম মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া থেকে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২-০ গোলের পর কার্যত ম্যাচ স্পেনের মুঠোয় চলে যায়।

শেষ আধাঘণ্টায় এমবাপ্পেরা সর্বস্ব উজাড় করে খেললেও স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে কোনো ফাটল ধরাতে পারেননি। পুরো ম্যাচে এমবাপ্পেকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা। ফরাসি অধিনায়ককে গোল তো দূরের কথা, বড় কোনো প্রভাবই ফেলতে দেওয়া হয়নি।

শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় স্প্যানিশ উল্লাস। ইয়ামাল দুই হাত তুলে দর্শকদের অভিনন্দন গ্রহণ করেন। তার হাসিতেই যেন ফুটে উঠছিল নতুন যুগের ঘোষণা। একসময়ের কিশোর প্রতিভা এখন বিশ্বকাপের ফাইনালের নায়ক। আর এমবাপ্পের জন্য এটি হয়ে থাকল হতাশার এক রাত।

এই জয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, বলের দখল এবং দলগত সমন্বয়ে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিদায় করেছে তারা। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণে তাদের সামনে শেষ বাধা। আর ডালাসের এই রাত মনে করিয়ে দিল, ফুটবলের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব নিতে লামিনে ইয়ামাল এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর