রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ‘বুধবার থেকেই অভিযান’

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ২২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

‘কাল থেকেই অভিযান শুরু হবে। মাদক কারবারিরা হুঁশিয়ার হয়ে যান।’- নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভায় এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।

মঙ্গলবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাদানীনগর এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের মাদকসংক্রান্ত অনেক অভিযোগ তার কাছে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার থেকেই অভিযান শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘কাল থেকে অভিযান শুরু হবে এবং এই এলাকা মাদকমুক্ত হবে। সুতরাং যারা মাদক কারবারি, তারা হুঁশিয়ার হয়ে যান।’

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে মসজিদ ও মাদরাসার আলেমদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, মসজিদ ও মাদরাসায় বয়ানের সময় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

সভায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করা গেলে মাদকসেবী ও কারবারিদের টিকে থাকা কঠিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সরকারি দলের সঙ্গে আছি এবং রাজনীতি করি, আমাদের কাছে যদি মাদকসেবীরা আশ্রয় না পায়, তাহলে তারা টিকতে পারবে না।’

সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জসহ সব এলাকায় রাজনৈতিক নেতাদের মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জের মাদক কারবারিদের বিষয়ে নিজের ধারণা থাকার কথা জানিয়ে মান্নান বলেন, ‘কে মাদক সেবন করে, কে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক কিছুই আমি জানি এবং চিনি। এবার অনুরোধ করছি, এরপর কিন্তু রেহাই পাবেন না।’

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, মাদকের সঙ্গে স্থানীয় ও বাইরের একটি চক্র জড়িত। কেউ বাইরে থেকে মাদক নিয়ে আসে, আবার স্থানীয় কিছু মানুষও সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাই শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, পরিবার ও সমাজ থেকে মাদকবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবারের কোনো সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ঘরের ভেতর থেকেই মোকাবিলা করতে হবে। কারণ পরিবারের ভেতরের মাদকাসক্ত বা মাদক কারবারির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হলেও সেটিই সবচেয়ে জরুরি।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত মানুষের তুলনায় মাদকের বিরুদ্ধে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তার দাবি, এলাকার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ মাদকের সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, ‘মাত্র ২ শতাংশ মানুষের কাছে ৯৮ শতাংশ মানুষ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সবাই মাদকমুক্ত সমাজ চান। সন্তানরা যাতে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে, সে জন্য মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, মাদক কারবারিদের নাম বলতে এখনো অনেকেই ভয় পান। অনেকে গোপনে তাদের নাম জানাতে চান।

তিনি বলেন, ‘যতদিন গোপনে রাখবেন, তারা তত বেশি প্রভাবশালী হবে। একজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ্যে বলতে সমস্যা কোথায়?’

তিনি বলেন, ‘তাদের সংখ্যা হয়তো ২০ থেকে ১০০ জন হবে। এর বেশি মাদক ব্যবসায়ী বা বিক্রেতা এই এলাকায় থাকার কথা নয়। হাজার হাজার মানুষ কেন গুটিকয়েক মানুষের নাম বলতে ভয় পাবেন?’

গোপনে অভিযোগের সুযোগ থাকলে অভিযুক্তরা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বা ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল বলে দাবি করার সুযোগ পায় বলেও মন্তব্য করেন রাজীব। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বক্তারা বলেন, শুধু মাদক নয়, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও নারী নির্যাতনও সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মাদানীনগরসহ সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর