শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
দালাল খুঁজতে ভূমি অফিসে ডিসির আকস্মিক অভিযান আজকের শিশুরাই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ – মামুন মাহমুদ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের যোগ্যতা ও সততার প্রমাণ দিতে হবে – মাওলানা মোঃ আব্দুল জব্বার আসুন সুশৃঙ্খল, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি পরিকল্পিত নগর গঠনে এনডিএ’র পাশে থাকার প্রত্যয় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের অবৈধ ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ‘খালেদ ও আরিফ’-এর বিরুদ্ধে আইএসপিএবি’র কঠোর নিষেধাজ্ঞা ধর্মগঞ্জ ব্র্যাক স্কুল সংলগ্ন বিএনপি নেতা মজনুর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির অভিযোগ ফতুল্লার উন্নয়নে শিক্ষিত নেতৃত্বের ডাক: আলোচনায় আমির হামজা রেকর্ডের বরপুত্র মেসি অষ্টমাকাশে মেসি

রেকর্ডের বরপুত্র মেসি

আল আমীন অর্ণব / ১৩ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ। চার বছর পরপর যে মঞ্চে ইতিহাস লেখা হয়, কিংবদন্তির জন্ম হয়। সেই বিশ্বকাপেই যেন রেকর্ডের আরেক নাম হয়ে উঠেছেন লিওনেল মেসি। মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ৩-২ গোলের জয়ে শুধু আর্জেন্টিনাকেই কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেননি, নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন একের পর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি। এমন সব রেকর্ড গড়েছেন, যেগুলোর অনেকগুলোই আগে কখনও কেউ স্পর্শ করতে পারেননি।

ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে সমতার গোলটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে তিনি গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে যান। একই সঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের এক আসরে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডেও ভাগ বসান। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের ১০ গোলের পর বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে আর কোনো ফুটবলার এত গোল করতে পারেননি।

এই গোলের মধ্য দিয়েই মেসি বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার নিজের বিশ্বরেকর্ড আরও দীর্ঘ করেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ধারাবাহিকতা আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই।

মিশরের বিপক্ষে গোলের আগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্টও করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তার নবম অ্যাসিস্ট। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন এককভাবে তার। এতদিন এই কীর্তিতে দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে যৌথভাবে ছিলেন তিনি।

নকআউট পর্বে মেসির আধিপত্যও এখন ইতিহাস। ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৬টি নকআউট ম্যাচে গোল করে তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন তার গোল ৭টি। এই তালিকায় তিনি পেলে, ভাভা ও ওলদ্রিখ নেজেদলির পাশে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।

শুধু গোল নয়, নকআউট পর্বে তার অবদান আরও বিস্ময়কর। ৭ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১৪টি গোলে সরাসরি ভূমিকা রয়েছে মেসির। গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত বেশি গোল-অবদান আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই। এই রেকর্ডে তিনি কিলিয়ান এমবাপেকেও পেছনে ফেলেছেন।

মেসি আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর নকআউট পর্বে অন্তত এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করা তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই সময়ে বিশ্বের আর কোনো ফুটবলারের এমন তিনটি ম্যাচ নেই।

তবে ম্যাচটি মেসির জন্য শুরু হয়েছিল হতাশা দিয়ে। ২১ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। সেই সঙ্গে একই বিশ্বকাপে টাইব্রেকার ছাড়া দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলারও হয়ে যান। বিশ্বকাপে নেওয়া ৮টি পেনাল্টির মধ্যে তার গোল মাত্র ৪টি।

এই ম্যাচে মেসি ৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং প্রতিপক্ষের পেনাল্টি এলাকায় ১২ বার বল স্পর্শ করেন। দুটি পরিসংখ্যানই বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৩৬টি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এই সংখ্যাটিও বিশ্বরেকর্ড। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্বকাপে তার গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সরাসরি অবদান দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

শুধু ব্যক্তিগত নয়, দলীয় ইতিহাসেও মেসির ছাপ স্পষ্ট। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত। একই সময়ে টানা ১১ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করার নজিরও গড়েছে আলবিসেলেস্তেরা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের যৌথ সর্বোচ্চ।

মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জেতা আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে। খেলা শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে নির্ধারিত সময়ে জেতা প্রথম দল এখন আর্জেন্টিনা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নেওয়ার নজিরও এটিই প্রথম।

৩৯ বছর বয়সের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মেসি যেন বয়সকে নয়, সময়কেই হার মানাচ্ছেন। প্রতিটি ম্যাচে নতুন রেকর্ড, প্রতিটি গোলে নতুন ইতিহাস। তাই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখন একটি কথাই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, রেকর্ডের বই খুললেই সেখানে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামটি লিওনেল মেসি। তাঁর জন্যই যেন রেকর্ড সৃষ্টি হয়, আবার সেই রেকর্ড ভাঙতেও ফিরে আসেন তিনিই। তাই তাকে এখন অনায়াসেই বলা যায়, রেকর্ডের বরপুত্র মেসি।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর