সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের দেশপ্রেম ও সততা অবিস্মরণীয়-সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী যে মাঠে শুরু, সে মাঠেই শেষ নেইমার সমর্থকদের চোখের জলে ভাসিয়ে বিদায় নিলো ব্রাজিল, নতুন ইতিহাস নরওয়ের ফতুল্লায় চাদাঁ দাবি ও হকার্স মার্কেট দখলের চেষ্টায় হামলার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ বন্দরে হাতুড়ি পেটায় আলমগীর হত্যার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২ ম্যাচ জিতল আর্জেন্টিনা, হৃদয় জিতল কেপ ভার্দে! শেষ ১৬-য় মেসিরা বিএনপি সরকার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী: এমপি কালাম ফতুল্লায় ব্যবসায়ী মোতালেব হত্যায় মূলহোতাসহ ৩ জন গ্রেফতার বাসাবাড়ির ময়লা ফেলা কর্মীদের ১০০ টাকার বেশি দিবেন না: সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা, তদন্তে প্রশাসন

যে মাঠে শুরু, সে মাঠেই শেষ নেইমার

আল আমীন অর্ণব / ৩২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

ফুটবল কখনো কখনো এমন গল্প লিখে, যা কোনো চিত্রনাট্যকারের কল্পনাকেও হার মানায়। নেইমার জুনিয়রের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ও তেমনই এক বিস্ময়কর বৃত্তের গল্প। যে মাঠে ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে স্বপ্নের যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেই মাঠেই হয়তো শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক পথচলা।

২০১০ সালের ১০ আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ। নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের নিউ মেডোল্যান্ডস স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের জার্সি গায়ে নামেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী নেইমার। ম্যাচের ২৮তম মিনিটেই হেডে গোল করে জানান দেন, ব্রাজিল পেয়ে গেছে তাদের নতুন তারকাকে। সেই ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে।

সময়ের সঙ্গে স্টেডিয়ামের নাম বদলে হয় মেটলাইফ স্টেডিয়াম। কিন্তু বদলায়নি স্মৃতিগুলো। সেই মাঠেই লেখা হয়েছিল নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলের ইতিহাস।

এরপর কেটে যায় ১৬ বছর। সান্তোসের বিস্ময় বালক হয়ে ওঠেন ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ। বার্সেলোনায় মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে গড়েন কিংবদন্তি এমএসএন ত্রয়ী। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার হিসেবে যোগ দেন পিএসজিতে। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন। কিন্তু একটি স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়, বিশ্বকাপ।

২০২৬ বিশ্বকাপে শেষবারের মতো সেই স্বপ্ন পূরণ করতে নেমেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। কিন্তু ভাগ্য যেন আবারও নিষ্ঠুর। রাউন্ড অব ১৬-তে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। সেটিই হয়ে থাকে ব্রাজিলের জার্সিতে তার শেষ গোল।

শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। মাঠেই ভেঙে পড়েন তিনি। পরে আবেগঘন কণ্ঠে জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ।

নেইমারের ভাষায়, “সবকিছুর শুরু হয়েছিল এখানেই। আর এখানেই শেষ হলো। আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখন সব শেষ।”

এ যেন এক অবিশ্বাস্য মিল। যে মাঠে প্রথম গোল করে কোটি ব্রাজিলিয়ানকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেই মাঠেই শেষবার জালের দেখা পেলেন। যে স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল হলুদ জার্সির গল্প, সেখানেই লেখা হলো শেষ অধ্যায়।

নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও ঈর্ষণীয়। ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন। ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপ, ২০১৬ অলিম্পিক স্বর্ণপদক, অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, অগণিত জাদুকরী ড্রিবল আর অশ্রুসিক্ত কয়েকটি বিশ্বকাপ, সব মিলিয়েই গড়ে উঠেছে তার উত্তরাধিকার।

বিশ্বকাপ ট্রফি হয়তো ছুঁয়ে দেখা হয়নি। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে নেইমারের জায়গা কখনোই শুধু শিরোপা দিয়ে মাপা যাবে না। কারণ তিনি ছিলেন এমন এক শিল্পী, যিনি বল পায়ে আনন্দকে শিল্পে রূপ দিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ফুটবল যেন নিজেই লিখে দিল সবচেয়ে আবেগঘন সমাপ্তি। যে মাঠে স্বপ্নের শুরু, সেই মাঠেই বিদায়। নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এর চেয়ে প্রতীকী সমাপ্তি হয়তো আর হতে পারত না।

তবে নেইমার সমর্থকরা আশা করেন নেইমার আবার ফিরবেন অভিমান ভেঙে। আবার সাম্বা নাচে মাতাবেন বিশ্ববাসীকে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর