সমর্থকদের চোখের জলে ভাসিয়ে বিদায় নিলো ব্রাজিল, নতুন ইতিহাস নরওয়ের
বিশ্বকাপে আবারও ইউরোপের কাছে থমকে গেল ব্রাজিল। লাখো সমর্থকের চোখে জল ঝরিয়ে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে নরওয়ে। ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভাইকিংরা।

রোববার বাংলাদেশ সময় রাতে শুরু থেকেই জমে ওঠে ম্যাচটি। তবে প্রথম বড় সুযোগ আসে ব্রাজিলের সামনে। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। কিন্তু ব্রুনো গিমারেজের নেওয়া স্পট কিক দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। সেই মুহূর্তেই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

পেনাল্টি মিসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ব্রাজিলকে শাস্তি দেয় নরওয়ে। প্রথমার্ধে দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। বিরতির পর ব্রাজিল সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও উল্টো আরেকটি পাল্টা আক্রমণে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হালান্ড। তার জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ চালালেও নরওয়ের রক্ষণভাগে বারবার আটকে যায় তাদের প্রচেষ্টা। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নেইমার। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে নরওয়ে, আর হতাশায় ভেঙে পড়ে ব্রাজিল শিবির।
এই হারের মধ্য দিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিল ব্রাজিল। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে একই পরিণতি হয়েছিল তাদের।
এরপরের পাঁচটি বিশ্বকাপেই অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল সেলেসাওরা। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে সেমিফাইনালেও উঠেছিল তারা। কিন্তু সেই পাঁচ আসরেই নকআউট পর্বে ইউরোপের প্রতিপক্ষের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। এবার নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনেও সেই অভিশাপ কাটাতে পারল না হলুদ জার্সিধারীরা।
অন্যদিকে নরওয়ের জন্য এটি এক স্বপ্নপূরণের রাত। ১৯৩৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা দেশটি এবার খেলছে মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ। প্রথম অংশগ্রহণেই শেষ ষোলোয় উঠেছিল তারা। ১৯৯৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও ১৯৯৮ সালে আবারও শেষ ষোলো খেলেছিল। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে এবার প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিল শেষ আটে।
পরিসংখ্যানও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল তারা। সব মিলিয়ে প্রীতি ম্যাচসহ পাঁচবার ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে তিনটি জয় পেয়েছে নরওয়ে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হলেও ব্রাজিল এখনো ভাইকিংদের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি।
হালান্ডের জোড়া গোল, ব্রুনো গিমারেজের পেনাল্টি মিস, শেষ মুহূর্তে নেইমারের সান্ত্বনার গোল এবং ব্রাজিল সমর্থকদের কান্না, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে নরওয়ের ঐতিহাসিক জয় আর ব্রাজিলের বেদনাদায়ক বিদায়ের জন্য।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...