অষ্টমাকাশে মেসি
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখলেন লিওনেল মেসি। একসময় ২ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা যেন বিদায়ের প্রহর গুনছিল। পেনাল্টি মিস, হতাশা আর মিশরের দুর্দান্ত ফুটবলে কাঁপছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু শেষ ১৫ মিনিটে বদলে গেল সবকিছু। অধিনায়কের অনুপ্রেরণায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে এলেন মেসি।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ষোলোর ম্যাচের শুরু থেকেই সাহসী ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ১৫ মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার কর্নার থেকে ডিফেন্ডার ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। এই গোলের পর আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার বড় সুযোগ পেলেও ২১ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। তার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। এরপরও একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে প্রথমার্ধ শেষ করে স্কালোনির দল।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হলেও ৬৭ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিশর। এর আগে তাদের আরেকটি গোল ভিএআরে বাতিল হয়েছিল। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল মোহাম্মদ সালাহর দল।
কিন্তু এরপরই শুরু হয় মেসির জাদু। ৭৯ মিনিটে তার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। মাত্র চার মিনিট পর নিজেই দুর্দান্ত ভলিতে সমতা ফেরান মেসি। পুরো ম্যাচে চাপের মুখে থাকা আর্জেন্টিনা যেন নতুন জীবন ফিরে পায়।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। হুলিয়ান আলভারেজের আক্রমণ থেকে গড়ে ওঠা দারুণ মুভে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ভেঙে পড়েন মেসি। আবেগে চোখের জলও ধরে রাখতে পারেননি বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক।
ম্যাচে ৬৪ শতাংশ বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তবে শেষ ১৫ মিনিটে তিন গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের নজির গড়ে স্কালোনির শিষ্যরা।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর। আর মেসি যোগ করলেন নিজের বিশ্বকাপ অভিযানে আরেকটি অবিস্মরণীয় রাত, যা হয়তো বহু বছর ধরে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় থাকবে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...