আর্জেন্টিনার জয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর জুড়ে সমর্থকদের উল্লাস
লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের এই জয়ের পর মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় নারায়ণগঞ্জ শহর। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আনন্দ মিছিল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, আতশবাজি ও উল্লাসে মেতে ওঠেন।
খেলার শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনার যেন আনন্দ নগরীতে রূপ নেয়। শহরের দুই নম্বর রেলগেট, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ডিআইটি, মাসদাইর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, সাইনবোর্ড, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। নীল-সাদা পতাকা হাতে প্রিয় দলের জয় উদযাপন করতে দেখা যায় সব বয়সী ফুটবলপ্রেমীদের। অনেকেই মেসির জার্সি পরে “মেসি, মেসি” ধ্বনিতে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা।
শহরের বিভিন্ন মোড়ে বাজতে থাকে ঢাক-ঢোল। মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে দীর্ঘ শোভাযাত্রা বের করেন সমর্থকেরা। কেউ আতশবাজি ফোটান, কেউ আবার গাড়ির হর্ন বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। অনেক স্থানে মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা যায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের।
খেলা চলাকালীন মিশরের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ায় অনেক সমর্থকের মুখে ছিল হতাশার ছাপ। কিন্তু শেষ দিকে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। মেসির গোল এবং এনজো ফার্নান্দেজের যোগ করা সময়ের জয়সূচক গোলের পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন দর্শকরা। বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ষোলোতে ২-০ ব্যবধান থেকে ফিরে ৩-২ গোলের এই জয় বিশ্বজুড়েই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমর্থকদের ভাষ্য, মেসি যতক্ষণ মাঠে থাকেন ততক্ষণ আশা বেঁচে থাকে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা টেলিভিশনের সামনে বসে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রিয় দলের জয় তাদের রাতটিকে উৎসবের রাতে পরিণত করেছে।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ছাদ, বাড়ির বারান্দা ও সড়কে উড়তে দেখা যায় আর্জেন্টিনার পতাকা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। রাত গভীর হলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় উল্লাস চলতে থাকে।
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে এগিয়ে চলা আর্জেন্টিনার এই নাটকীয় জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে চান সমর্থকেরা। তাদের প্রত্যাশা, মেসির নেতৃত্বে এবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঠবে আর্জেন্টিনার হাতেই।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...