বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাজের মানে আপস নয়, ত্রুটি পেলেই জানাতে বললেন এমপি আল আমিন স্পেনের পায়ের জাদুতে থামল মেসির স্বপ্ন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি ও সমঅধিকার চান এমপি আল আমিন নাসিক প্রশাসকের সঙ্গে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাষ্ট না’গঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ সাখাওয়াত, মামুন মাহমুদ ও রাজীবকে চেম্বারের সংবর্ধনা রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর : না’গঞ্জে আহত সাংবাদিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ না’গঞ্জকে সেফ সিটি গড়তে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ সাংবাদিক নেতা ও আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুমের জন্মদিন আজ না’গঞ্জ শহরের সড়ক ডিভাইডার পরিষ্কার করে বৃক্ষরোপণ করবে নাসিক নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী সোহাগকে ফুলেল সংবর্ধনা

নারায়ণগঞ্জের নগর ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ২৬৫ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

জনগণভোগান্তি ও নগর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ‘ওয়ার্কিং ফর বেটার নারায়ণগঞ্জ’  উদ্যোগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো নগর ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠান। কর্মসূচিতে নগরবাসীর ভোগান্তি নিরসনে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার মাকসুদুর আলম খন্দকার খোরশেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পেশার ও স্তরের সাধারণ মানুষ।

পাঁচ দফা দাবি
১। জনগভোগান্তি বিহীন পরিকল্পিত উন্নয়ন,  ২। মেট্রোরেল বাস্তবায়ন, ৩। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, .৪। দুর্গন্ধ বিহীন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ না করা পর্যন্ত পানিকর প্রত্যাহার , ৫। গলাচিপা জামতলা মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় জলবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ।

খন্দকার খোরশেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বক্তারা বলেন, প্রশাসক নিয়োগের পর নতুন প্রশাসক বেশ গতিশীলভাবে কাজ শুরু করেছেন, এজন্য তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তবে তারা বলেন, শুধু প্রশাসক নয়, পুরো সিটি কর্পোরেশন পরিষদকেই গতিশীল হতে হবে, যাতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল নাগরিকরা দ্রুত পান। “আমরা জনভোগান্তিবিহীন উন্নয়ন চাই। ঠিকাদাররা দুই মাসের কাজ ছয় মাসে করছে, ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যাচ্ছে না। উন্নয়নকালীন কিছু ভোগান্তি হয়, তবে তা মাসের পর মাস চলতে পারে না। সিটি কর্পোরেশনের কাজের একটা নিয়ম-শৃঙ্খলা দরকার, যাতে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।”

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ আগের চেয়ে বেড়ে গেছে, তাই প্রয়োজন বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা, ভাইরাসটি কোনোভাবে মিউটেশনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে কিনা। এবং তিনি তার ২২ বছরের কাউন্সিরল থাকার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানান,  পুরনো দিনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে মশা নিধন করে ডেঙ্গু নিধন সম্ভব নয়। প্রয়োজনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মেট্রোরেল বাস্তবায়ন:

খন্দকার খোরশেদ তার বক্তব্যে বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা হলেও এখন এটি কার্যত “এক রাস্তার শহর” হয়ে পড়েছে যা আমাদের জন্য দূর্ভাগ্যজনক।  বর্তমান অবকাঠামোর কারণে নতুন সড়ক সম্প্রসারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এখন একোয়ার করে বা অন্য কোনোভাবে রাস্তা বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই নগর উন্নয়নের স্বার্থে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা—যেমন মেট্রোরেল বা আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন—প্রবর্তন করা জরুরি,” 
তারা আরও বলেন, যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের উচিত এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে দেন দরবার শুরু করা, যাতে ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জবাসী আধুনিক পরিবহন সুবিধা পায়।

পানির দূষণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ:

নাগরিকরা নিজেদের অর্থে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি কিনে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। “এই পানিতে হাত-পা ধোয়া যায় না, গোসল করলে শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। খাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। এতে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি দিতে না পারলে তারা যেন পানির বিল ও কর বন্ধ রাখে।” তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে দুইভাবে পানির বিল পরিশোধ করতে হয় — একবার ওয়াসার মাধ্যমে, আরেকবার সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্সের মধ্যে। “আমরা কেন দুইবার বিল দিয়ে ড্রেনের পানি খাব?”

জলাবদ্ধতা সমস্যা:

সর্বশেষ দাবিতে উল্লেখ করেন, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও সিটি এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। আগে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারত এখন তা নামতে পারছে না । বিশেষ করে গুদারাঘাট, মাসদাইর ও বেগম রোকেয়া খন্দকার উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে। এখানে জলাবদ্ধতা স্থায়ী আকার ধারণ করেছে। এতে করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের এই এলাকার মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। “বিদ্যালয়ে ১৪০০ শিক্ষার্থী থাকলেও হাজিরা ৪০০-৫০০ জনে নেমে এসেছে। বাচ্চারা জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলে যেতে পারে না।” তারা অভিযোগ করেন, কালিলিনিয়াখালী খাল ও বিসিক খাল ভরট হয়ে গেছে এবং কাশিপুর খাল দখল হয়ে গেছে , পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত শীতলক্ষ্যা নদীতে যেতে পারছে না।

এছাড়াও বন্দরের পানির পাম্পের বিভিন্ন সমস্যাসহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে পরবর্তীতে এই বিষয়ে কর্মসূচী প্রদান করা হবে বলে জানান। স্মারকলিপি প্রদান: কর্মসূচির শেষে ‘ওয়ার্কিং ফর বেটার নারায়ণগঞ্জ’ এর পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বরাবর পাঁচ দফা দাবিনামা স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর