বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
নাসিরকে একহাত নিলেন বিএনপি নেতা টিপু স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বাচ্চুর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী কাজের মানে আপস নয়, ত্রুটি পেলেই জানাতে বললেন এমপি আল আমিন স্পেনের পায়ের জাদুতে থামল মেসির স্বপ্ন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি ও সমঅধিকার চান এমপি আল আমিন নাসিক প্রশাসকের সঙ্গে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাষ্ট না’গঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ সাখাওয়াত, মামুন মাহমুদ ও রাজীবকে চেম্বারের সংবর্ধনা রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর : না’গঞ্জে আহত সাংবাদিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ না’গঞ্জকে সেফ সিটি গড়তে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ সাংবাদিক নেতা ও আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুমের জন্মদিন আজ

এক হাতেই উঁচিয়ে ধরেছেন বিশ্বকাপ ট্রফি, হেক্টর কাস্ত্রোর অবিশ্বাস্য গল্প

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ১২৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
এক হাতেই উঁচিয়ে ধরেছেন বিশ্বকাপ ট্রফি, হেক্টর কাস্ত্রোর অবিশ্বাস্য গল্প

ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপজয়ী নায়কের অভাব নেই। কেউ অসাধারণ দক্ষতায়, কেউ নেতৃত্বে, আবার কেউ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে নিজের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসে।কিন্তু উরুগুয়ের হেক্টর কাস্ত্রোর গল্প অন্য সবার চেয়ে আলাদা। কারণ তিনি শুধু একজন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার নন, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি জীবনের সবচেয়ে বড় বাধাকে পেছনে ফেলে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে অমরত্ব অর্জন করেছিলেন।

১৯০৪ সালে উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে জন্ম নেওয়া কাস্ত্রোর শৈশব খুব একটা সহজ ছিল না। মাত্র ১৩ বছর বয়সে একটি বৈদ্যুতিক করাতের দুর্ঘটনায় তার ডান হাতের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এমন দুর্ঘটনা সাধারণত একজন কিশোরের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিশেষ করে ফুটবলের মতো শারীরিক ভারসাম্য ও শক্তির খেলায় এক হাত হারানো মানে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাই প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া।
কিন্তু কাস্ত্রো ছিলেন ভিন্ন ধাতুর মানুষ।
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে থেমে যাওয়ার বদলে তিনি আরও বেশি দৃঢ়তা নিয়ে ফুটবলে মনোযোগ দেন। প্রতিদিনের অনুশীলন, কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য মানসিক শক্তির মাধ্যমে তিনি নিজেকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যান, যেখানে তার প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং প্রতিভাই হয়ে ওঠে আলোচনার বিষয়। মাঠে তিনি ছিলেন দ্রুতগতির, সাহসী এবং গোলমুখে দুর্দান্ত একজন ফরোয়ার্ড।

কাস্ত্রোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে জায়গা করে দেয় উরুগুয়ে জাতীয় দলে। ১৯২৮ সালের অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী উরুগুয়ে দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। সে সময় অলিম্পিক ফুটবলই ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি নিজেকে বড় মঞ্চের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে আয়োজন করা হয় ইতিহাসের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ। স্বাগতিক দল হিসেবে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ছিল উরুগুয়ে। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন কাস্ত্রো। টুর্নামেন্টে উরুগুয়ের প্রথম ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন তিনিই। বিশ্বকাপ ইতিহাসে উরুগুয়ের প্রথম গোলদাতা হওয়ার গৌরবও তাই তার নামের পাশে লেখা আছে।

তবে তার সবচেয়ে স্মরণীয় অবদান আসে ফাইনালে। মন্টেভিডিওর সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে প্রায় ৯০ হাজার দর্শকের সামনে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে একসময় ২-১ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল উরুগুয়ে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে স্বাগতিকরা। ম্যাচের শেষ দিকে কাস্ত্রো গোল করে উরুগুয়ের ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। সেই গোলের পরই নিশ্চিত হয়ে যায় ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে উরুগুয়ে।

এক হাত হারানো সেই মানুষটির গোলই হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের প্রথম অধ্যায়ের অন্যতম প্রতীকী মুহূর্ত। পরে তিনি ‘এল দিভিনো মানকো’ বা ‘দিব্য পঙ্গু’ নামে পরিচিতি পান। প্রায় এক শতক পরও হেক্টর কাস্ত্রোর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করা হয়। কারণ তিনি শুধু বিশ্বকাপজয়ী নায়ক নন। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি শরীরে নয়, তার ইচ্ছাশক্তি ও অদম্য সাহসে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর