ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে ডেঙ্গু
বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। জেলার ২টি বৃহত্তম সরকারি হাসপাতালের প্রত্যেকটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত অনেকে প্রাইভেট ক্লিনিকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জনসচেতনতা বাড়ানো ও মশার প্রকোপ কমানো না গেলে অচিরেই ডেঙ্গু ব্যপক আকারে দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করছে বিশেষজ্ঞরা। এদিকে শহরে ও আশপাশের এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রমে ব্যপক গাফলতির অভিযোগ করছেন নগরবাসী।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে গতকাল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ও খানপুর হাসপাতালে গেলে বহির্বিভাগে ডেঙ্গু রোগীদের লম্বা লাইন দেখা যায়। ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের ‘আরএমও’ জানান, চলতি মাসে ১১৭জন রোগীকে এ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৭জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। প্রায় প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত মাসে ১২৫জন রোগীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে তিনি জানান।
হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী সালমা (৩০) জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা ও আনুসাঙ্গীক টেষ্ট করা হচ্ছে। তবে, কিছু ঔষধ বাইরে থেকে ক্রয় করতে হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে জানা যায়, জরুরি বিভাগেও জ¦র আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে পরিক্ষা করে ডেঙ্গু প্রমানিত হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে।
খানপুর হাসপাতালে গিয়েও জ¦র ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর লম্বাা লাইন দেখা গেছে। এ হাসপাতালেও প্রতিদিন শতাধিক জ¦র ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল সুপারের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, চলতি মাসে ১৭৫জন ডেঙ্গু রোগীকে এ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৪জন রোগী ভর্তি আছে। গত মাসে ১৬৬জন ডেঙ্গু রোগীকে এ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৪০০০ কিট দেওয়ায় হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু কিট রয়েছে।
তিনি বলেন, জ¦র আক্রান্ত হলে নিকটস্থ ফার্মেসী থেকে ঔষধ কিনে না খেয়ে লোকজনের উচিত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেয়া। জ¦র থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকার এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন না করা উচিত।
সিটি কর্পোরেশন থেকে মশা নিধন কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রয়োজন বলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, মশা নিধনের কর্মচারিদের ফগার মেশিন নিয়ে হাসপাতালের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখি, কিন্তু ঔষধ দিতে তো দেখি না।
এদিকে, জেলার অন্যান্য থানা এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞ মহল ও চিকিৎসকদের মতে ডেঙ্গু রোধে চিকিৎসার পাশাপাশি মশা নিধন কার্যক্রম জরুরী ভিত্তিতে বেগবান করা প্রয়োজন। অন্যথায় ব্যাপক আকারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন তারা।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...