শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
মানবিক কর্মকাণ্ডে আলোচনায় কাউসার, চেয়ারম্যান পদে বাড়ছে আলোচনা দেড় বছরের ধারাবাহিকতা, একবেলার খাবারে শত শিশুর হাসি দালাল খুঁজতে ভূমি অফিসে ডিসির আকস্মিক অভিযান আজকের শিশুরাই গড়বে আগামীর বাংলাদেশ – মামুন মাহমুদ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের যোগ্যতা ও সততার প্রমাণ দিতে হবে – মাওলানা মোঃ আব্দুল জব্বার আসুন সুশৃঙ্খল, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি পরিকল্পিত নগর গঠনে এনডিএ’র পাশে থাকার প্রত্যয় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের অবৈধ ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ‘খালেদ ও আরিফ’-এর বিরুদ্ধে আইএসপিএবি’র কঠোর নিষেধাজ্ঞা ধর্মগঞ্জ ব্র্যাক স্কুল সংলগ্ন বিএনপি নেতা মজনুর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির অভিযোগ ফতুল্লার উন্নয়নে শিক্ষিত নেতৃত্বের ডাক: আলোচনায় আমির হামজা

দেড় বছরের ধারাবাহিকতা, একবেলার খাবারে শত শিশুর হাসি

আল আমীন অর্ণব / ৩১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

শুক্রবার। জুমার নামাজ শেষ হতেই নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশনের এক কোণে জড়ো হতে থাকে ছিন্নমূল শিশুরা। কারও গায়ে পুরোনো জামা, কারো গায়ে নেই জামাও, আবার কারও পায়ে জুতা নেই। তবে তাদের চোখে থাকে অন্যরকম এক অপেক্ষা। কারণ তারা জানে, আজও খাবার নিয়ে আসবেন একজন মানুষ।

গত প্রায় দেড় বছর ধরে প্রতি শুক্রবার এমন দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশনে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর উদ্যোগে নিয়মিতভাবে পথশিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। স্বপ্নছোয়া পথশিশু মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত এ উদ্যোগটি এখন অনেক শিশুর সাপ্তাহিক আশ্রয় আর আনন্দের উপলক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

একদিনের প্রচারণা নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে একই ধারাবাহিকতায় চলা এই কার্যক্রম স্থানীয়দেরও নজর কেড়েছে। প্রতি শুক্রবার খাবার নিতে আসা শিশুদের অনেকেই এখন স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে পরিচিত মুখ। কেউ স্টেশনে রাত কাটায়, কেউ ভিক্ষা করে, কেউ আবার ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা চালায়। সপ্তাহের একটি দিন অন্তত পেট ভরে খাওয়ার নিশ্চয়তা তাদের জন্য আলাদা স্বস্তি নিয়ে আসে।

স্বপ্নছোয়া পথশিশু মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হাইউল ইসলাম প্রধান হাবিব বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে কোনো বিরতি ছাড়াই অ্যাডভোকেট টিপুর সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চলছে। তিনি শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। নিজের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানেও পথশিশুদের দাওয়াত দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন। যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, ডিসি, এসপিসহ নানান দলের প্রধানরা সেখানে পথশিশুদেরও সমান সম্মান দিয়ে বসিয়ে খাওয়ানো হয়েছে। তাদের জীবনে এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনও আসেনি। যেটা ছিলো তাদের কল্পনার বাহিরে।

অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, পথশিশুদের দেখভাল করার মতো কেউ থাকে না। এতিমখানা কিংবা মাদ্রাসার শিশুদের অন্তত দেখাশোনার ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু রাস্তায় বেড়ে ওঠা এসব শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার মানুষ খুবই কম। সেই ভাবনা থেকেই তিনি দেড় বছর আগে এই উদ্যোগ শুরু করেন।

তিনি বলেন, শুধু প্রতি শুক্রবার নয়, জাতীয় ও ধর্মীয় বিভিন্ন দিবসেও পথশিশুদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে তার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি নিয়মিত দৈনিক তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি পথশিশুদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা এবং নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে চান। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।

তার ভাষায়, পথশিশুদের পাশে না দাঁড়ালে তারা সহজেই অপরাধ কিংবা মাদকের মতো বিপথে চলে যেতে পারে। তাই যতদিন বেঁচে থাকবেন, তাদের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান। এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

খাবার হাতে পেয়ে কয়েকজন পথশিশুর মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। তারা জানায়, প্রতি শুক্রবারের এই আয়োজনের জন্য তারা অপেক্ষা করে। এ খাবারই সপ্তাহের সবচেয়ে ভালো খাবার হয়ে ওঠে তাদের জীবনে।

ব্যস্ত শহরের কোলাহলের মাঝেও তাই প্রতি শুক্রবার চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশনে দেখা মেলে অন্যরকম এক দৃশ্যের। যেখানে রাজনীতি নয়, পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একবেলার খাবার হয়ে ওঠে কিছু পথশিশুর কাছে ভালোবাসা, সম্মান আর বেঁচে থাকার নতুন অনুপ্রেরণা।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর