সালাহ বনাম ডি ব্রুইন, কার হাতে প্রথম জয়?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-তে সোমবার রাতে সিয়াটল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম ও মিশর। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি শুরু হবে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেলজিয়াম টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে শুরু করতে চাইছে। তবে মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বাধীন মিশরও বড় চমক দেখানোর অপেক্ষায়।
প্রথম ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে বেলজিয়াম। দলের গুরুত্বপূর্ণ সেন্টার-ব্যাক জেনো ডেবাস্ট পায়ের চোটে ছিটকে গেছেন ম্যাচ থেকে। যদিও ডেবাস্ট এখনও দলের সঙ্গেই রয়েছেন। তবে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডের আগে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই। ফলে বেলজিয়াম কোচ রুচি গার্সিকাকে রক্ষণভাগে কিছুটা পরীক্ষামূলক সমাধানের পথে হাঁটতে হচ্ছে।
কোচ রুচি গার্সিকার অধীনে নতুন রূপে দেখা যাচ্ছে বেলজিয়ামকে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচে হারলেও এরপর থেকে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে রেড ডেভিলসরা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে বেলজিয়াম। ইউরোপিয়ান অঞ্চলে তারা ২৯ গোল করেছে, যা নরওয়ের (৩৭) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রেমেলু লুকাকুকে শুরু থেকেই খেলানো হবে, নাকি চার্লস ডে কেটেলারকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে-সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বেলজিয়াম ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাঝমাঠে কেভিন ডি ব্রুইন ও উইংয়ে জার্মি ডোকুর গতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে রেড ডেভিলসরা।
অন্যদিকে মিশর বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ এপ্রিলের শেষ দিকে পাওয়া হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৪৫ মিনিট খেলে নিজের ফিটনেসও প্রমাণ করেছেন তিনি। কোচ হোসাম হাসানের দল রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকবে তাদের।
মিশরের আক্রমণভাগে সালাহর সঙ্গে থাকবেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওমর মারমউস। আর রক্ষণে মোহাম্মেদ আবডেলমোনেম ও ইয়াসির ইব্রাহিমের জুটি বেলজিয়ামের আক্রমণ ঠেকানোর দায়িত্বে থাকবেন।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বেলজিয়াম। প্রস্তুতি ম্যাচে তারা ক্রোয়েশিয়াকে ২-০ গোলে হারানোর পর তিউনিসিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। আক্রমণভাগের ধার ও দলের আত্মবিশ্বাস তাদের অন্যতম ফেভারিটে পরিণত করেছে।
হোসাম হাসানের অধীনে সফল বাছাইপর্ব পার করেছে মিশর। প্রস্তুতি ম্যাচে স্পেনের সঙ্গে ০-০ ড্র, রাশিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারানো এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলের লড়াকু হার দলটির শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।
বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে বেলজিয়াম ও মিশর। তবে প্রীতি ম্যাচে চারবার দেখা হয়েছে দুই দলের। সেখানে মিশরের জয় তিনটি, আর বেলজিয়ামের মাত্র একটি। সর্বশেষ ২০২২ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মিশর ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল।
তবে আফ্রিকান দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের রেকর্ড বেশ ভালো। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে তিনটি, ড্র করেছে একটি এবং হেরেছে মাত্র একটি ম্যাচ।
আজ রাতে কার মুখে ফুটবে বিজয়ের হাসি? শক্তিমত্তায় দুই দলকে আলাদা করা যাবে। সেক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে বেলজিয়াম। কিন্তু মিশরকে আড়াল করা যাবে না কিছুতেই। আর ম্যাচটা বিশ্বকাপের বলে চনমনে থাকার সুযোগও নেই।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...