বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহেই গোলবন্যা, প্রতি ম্যাচে গড়ে তিনের বেশি গোল
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার পর মাত্র কয়েকদিনেই দেখা মিলেছে গোলের বন্যা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ১২ ম্যাচ শেষে মোট গোল হয়েছে ৩৮টি। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গোলের গড় দাঁড়িয়েছে ৩.১৭। ফলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল ও গোল উৎসবে মেতে উঠেছেন বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা।
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় জয় এসেছে জার্মানির কাছ থেকে। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে সুইডেন তিউনিসিয়াকে ৫-১ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের আক্রমণভাগের সামর্থ্য দেখিয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহেই ৮ গোলের একটি ম্যাচ দেখা গেছে, যা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ। জার্মানি-কুরাসাওর সেই ম্যাচে গোলের বন্যা বইয়ে দেন জার্মান ফরোয়ার্ডরা। একই সঙ্গে কুরাসাও বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের স্বাদও পায়।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ১২ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি ম্যাচ গোলশূন্য বা এক গোলের ব্যবধানে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ ম্যাচেই দুই বা তার বেশি গোল হয়েছে। এতে করে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বাড়ছে, বিশ্বকাপ যত গড়াবে গোলের সংখ্যাও তত বাড়বে।
তবে গোলের এই গড় অতীতের বিশ্বকাপগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৬ আসরের শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জক হলেও এখনও সর্বকালের সেরা নয়।
১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপকে এখনো সবচেয়ে বেশি গোলের বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হয়। সে আসরে ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ছিল ৫.৩৮। এরপর ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ছিল ৪.৬৭ এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে ২.৯৭ গোল।
আধুনিক যুগের বিশ্বকাপগুলোর মধ্যে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে মোট ১৭২ গোল হয়েছিল, ম্যাচপ্রতি গড় ২.৬৯। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে হয়েছিল ১৬৯ গোল, গড় ২.৬৪। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে হয়েছিল ১৭১ গোল, গড় ২.৬৭। সেই তুলনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহের ৩.১৭ গোলের গড় নিঃসন্দেহে বেশি আকর্ষণীয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে অংশ নেওয়া অনেক দলই রক্ষণাত্মক ফুটবলের বদলে আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করায় গোলের সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি শক্তিশালী দলগুলো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সুযোগ কাজে লাগাতে পারায় বড় ব্যবধানের জয়ও দেখা যাচ্ছে।
এদিকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন, জার্মানির কাই হাভার্টজ এবং সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি দুইটি করে গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। তাদের পেছনে রয়েছেন এক গোল করা একাধিক ফুটবলার।
বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহের হিসাব বলছে, দর্শকদের বিনোদনের কোনো ঘাটতি নেই। নাটকীয়তা, অঘটন আর গোলের বন্যায় ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত এই গোলের ধারা অব্যাহত থাকে কি না।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...