নদীতে ফেলে দেওয়া সেই নবজাতকের দায়িত্ব নিলেন স্থানীয় দম্পতি
অভাবের সংসারে তিন সন্তানের পর চতুর্থ সন্তানকে নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ার ভয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা সেই নবজাতক কন্যা শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের এক স্থানীয় দম্পতি। শিশুটিকে আইনগতভাবে দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে বন্দর উপজেলার বক্তারকান্দি এলাকায় এক ভাড়া বাসায় শিশুটির জন্ম দেন রাহেনা বেগম। তার স্বামী আব্দুল মালেক শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং পেশায় রিকশাচালক। জন্মের পর বিষয়টি গোপন করে সকালে শিশুটিকে বাজারের ব্যাগে ভরে নদীর পাড়ে ফেলে দেওয়ার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে পুলিশ ও সমাজসেবা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে শিশুটিকে মা-বাবার জিম্মায় দেওয়া হলেও এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন প্রতিবেশীরা।
এই পরিস্থিতিতে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ আপন ও তার স্ত্রী। সুলতান মাহমুদ জানান, উদ্ধার করার সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং সে অসুস্থ ছিল। তার স্ত্রী শিশুটিকে বুকের দুধ খাইয়েছেন এবং হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। বর্তমানে শিশুটি তাদের কাছে সুস্থ ও নিরাপদ আছে। তারা শিশুটিকে নিজেদের সন্তানের মতোই বড় করতে চান।
এদিকে শিশুটির বাবা আব্দুল মালেক বর্তমানে রংপুরে গ্রামের বাড়িতে আছেন। তিনি জানান, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি তার কাছে গোপন করেছিলেন। দারিদ্র্য এবং পরিবারের চাপে পড়ে তার স্ত্রী এমন কাজ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। মালেক আরও জানান, সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোনো দাবি-দাওয়া ছাড়াই স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে শিশুটিকে আপন দম্পতির হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রয়োজনে আইনগতভাবে দত্তক দিতেও তিনি রাজি আছেন।
বন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরিফ তালুকদার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ফয়সাল কবীর জানিয়েছেন, তারা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। শিশুটি বর্তমানে যাদের জিম্মায় আছে এবং তার জন্মদাতা বাবা-মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আগামী রোববার এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা শিশু কল্যাণ বোর্ডে বিষয়টি তোলা যায় কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...