বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
আজ পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের কোথাও ঠিকানা স্থায়ী হলো না বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার মৃত্যুতে মাসুকুল ইসলাম রাজীবের শোক প্রকাশ বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে নারায়ণগঞ্জের মাসুদুজ্জামান: আবদুল জব্বারের অভিনন্দন কোথাও ঠিকানা স্থায়ী হলো না ওসির ব্যর্থতায় খুনের মিছিল, আস্থা হারাচ্ছে স্থানীয় এমপিও বর্জ্যবাহী ট্রাকের চাপায় ছাত্রদল নেতাসহ দুইজন নিহত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাবে বিটিভিতে যে ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি হবে সে ওয়ার্ডের সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হবে – নাসিক প্রশাসক নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন ও শান্তির স্বপ্নে ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ সোহাগ

কোথাও ঠিকানা স্থায়ী হলো না

ড. তৈমূর আলম খন্দকার (সিনিয়র অ্যাডভোকেট) / ২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
কোথাও ঠিকানা স্থায়ী হলো না (দ্বিতীয় পর্ব) 

আর্টিকেলের শেষাংশে উক্ত দুইটি প্যারা থাকায় বহুল প্রচারিত পত্রিকায় লেখাটি ছাপায় নাই। বিষয়টি আমাকে আবারো স্মরন করিয়ে দেয় গণতান্ত্রিক সরকারের আমলের- মত প্রকাশের স্বাধীনতার হাত কতটুকু লম্বা বা খাট তা এখনো বুঝে উঠতে পারি নাই। সব সরকারের চরিত্রে কোন ভিন্নতা নাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতার অনুকুলে সরকারের মুখভরা বুলি ও বাস্তবতা-একই অঙ্গের ভিন্নরূপ মাত্র। পত্রিকায় নিজস্ব পলিসি প্রকাশ পাবে সম্পাদকীয়তার মাধ্যমে। কিন্তু লেখক কেন স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করতে পারবে না? তবে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা রইল কোথায়? অনেক ক্ষেত্রেই মিডিয়ার মালিকানা এখন পেশাদারদের হাতে নেই; চলে গেছে ব্যবসায়ীদের হাতে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ভিন্ন ধরনের বিড়ম্বনা।

স্মরন পরে, প্রাথমিক শিক্ষাবস্থায় বাবা আমাকে তৎসময়ের Branded Parker কালির কলম দিয়ে বলেছিলেন “বৃটিশ আমলে ১৯৪৭ সনে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার জন্য তৎকালীন Branded “President” কলম দাদার নিকট থেকে চেয়ে ছিলেন, তখন আমার দাদা আমার বাবাকে বলেছিলেন তোকে প্রেসিডেন্ট কলম দিতে হলে আমার ৫মন ধান বেচতে হবে”; দাদার কথায় বাবার মন ব্যথিত হওয়ার কারনে বাবা কোলকাতায় ম্যাট্টিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু President কলমে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ হয় নাই- তৎসময়ে বাবার ব্যথিত মন এখনো আমি স্মরন করি। পৃথিবীর যেখানেই যাই সেখান থেকে এখনো মান সম্মত কলম নিয়ে আসি এবং নিয়মিত কালির কলমেই লিখি এবং একটু ফুসরত পেলেই অবচেতন মনেই কাগজের উপর কলম চালানো অভ্যাসে পরিনত হয়েগেছে।

লেখা লেখি যদিও মান সম্মত হয় না তবুও চেষ্টা দীর্ঘ দিনের। ১/১১ সরকারের ২৬ মাস কারাবন্দীবস্থায় কারা-উপ-মহাপরিদর্শক মেজর (অব:) শামসুল আলমের উদ্দ্যেগে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ হয়। সেখানেও লেখার দায়িত্ব পাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উক্ত পত্রিকায় দুকলম লিখেছেন। যাতে উল্লেখ ছিল যে, “কারাবন্দী অবস্থায় কয়েদীরা যে অর্থ উপার্জন করে সাজা ভোগের পর সে অর্থ যেন তারা বাড়ীতে নিতে পারে”। কারাগার ব্যবস্থাপনার উপর আমার লেখা প্রকাশ হওয়ার পর পরবর্তীতে লেখার জন্য আর দায়িত্ব পাই নাই।

কারাবন্দী থাকাবস্থায় ১/১১ সরকার আমার বন্দুক ও পিস্তলের লাইসেন্স, গণডাক পত্রিকার ডিক্লারেশন, উত্তরা রাজউক প্লট, বিসিকের হোশিয়ারী প্লট বরাদ্দ বাতিল করে। শেখ হাসিনা সরকার আমার ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট স্থগিত, বিদেশ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় বধির সংস্থার সভাপতির পদ ছিনিয়ে নেয়। বন্দুক ও পিস্তলের লাইসেন্স ছাড়া হাইকোর্টে রীট করে সব কিছুই ফেরৎ পেয়েছি; আমার বিরুদ্ধে চাষাঢ়া বোমা হামলা সহ অনেক ফৌজদারী মামলা থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জোর আপত্তিতে হাইকোর্ট আর্মস লাইসেন্স ফেরৎ দেয়ার আদেশ দেয় নাই, যা বর্তমানে সুপ্রীম কোর্টের মূল ভবনের ১২নং আদালতে Part- Heard হিসেবে কার্য তালিকায় রয়েছে; (রীট পিটিশন নং ১১০১/২০১২)।

একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হওয়ায় ঢাকার এডিসি (সার্বিক) ধীরাজ মালাকার নিজে বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করে। ঐ মামলায় জামিন নিয়ে ঢাকায় সরাসরি এডিসি (সার্বিক) সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি বুঝিয়ে বললে তিনি মহকুমা প্রশাসক, নারায়নগঞ্জ জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলামকে ফোন করলে মামলা থেকে আমাকে অব্যহতি দেয়া হয়। ২১/০৭/১৯৯১ইং তারিখে গণডাক নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষ আমার অনুকুলে ডিক্লারেশন প্রদান করেন। পত্রিকা ছাপা শুরুতেই শুরু হয় বিড়ম্বনা। “যে ম্যাজিস্ট্রেট রাতের বেলায় নারায়নগঞ্জ ক্লাব বা রাইফেল ক্লাবে জুয়া খেলে, সেই ম্যাজিস্ট্রেটই দিনের বেলায় আদালতে বসে জুয়াড়ীদের সাজার রায় প্রদান করে” এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ১ম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবদুল মালেক নিজে বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন। জামিন নেয়ার পর জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান সেই মামলা আর প্রসিড করতে দেন নাই। জেলা জজ শীপের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে “মাথায় ধরেছে পচন” শিরোনামে আরো একটি আর্টিকেল ছাপা হওয়ায় তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ, নারায়নগঞ্জ জনাব আবদুল মজিদ অত্যন্ত ক্ষোভপ্রকাশ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নিলে আইনজীবী বিশেষ করে জুনিয়র আইনজীবীদের আন্দোলনে সে বিষয়টি প্রসিড হয় নাই।

১৯৯৩ সনের ৬ই ডিসেম্বর মীরাটে (ভারত) রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা শুরু হলে নারায়নগঞ্জে একটি প্রতিবাদ মিছিল করি, যা আমার চিন্তার চেয়ে বেশী লেকাজনের সমাবেশে পরিনত হয়েছিল। একটি মহল থেকে প্রচার করা হলো আমি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানী দিচ্ছি। আমার সাথে থাকা রফিক কমিশনার ডি.সি অফিসে মিটিং থেকেই গ্রেফতার এবং তৎকালীন আমার চেম্বার জুনিয়র সরকার হুমায়ন কবির গ্রেফতার হয়ে উভয়েই ডিটেনশনে; গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ হন্যে হয়ে আমাকে খোঁজাখুজি করে। তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি- বিচারপতি নুরুল ইসলাম সাহেবের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার থেকে রক্ষা পাই। এ-মর্মে সাংবাদিক সমাজের যথেষ্ট সহযোগীতা ছিল। বার কাউন্সিলের বিশেষ অনুমতি নিয়ে নারায়নগঞ্জ সাব জেলে সরকার হুমায়ন কবীরের এডভোকেট শীপ পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করি। ভারতে মুসলিম হত্যার কারনে কংগ্রেস ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে ৫টি কারণ চিহ্নিত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে চিঠি লিখি। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে রাজীব গন্ধী চিঠির উত্তর দিয়ে

চলবে….

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর