ফতুল্লায় পানির নিচে অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল, প্রতিকার অতীব জরুরী
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেটা কোন কাজেই আসেনি। টানা বৃষ্টিতে একেবারে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ এলাকার নিম্নাঞ্চল। গেলো কয়েকদিনের অল্প বৃষ্টিতেই বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ, দোকানপাট, এমনকি ছোট বড় কারখানাগুলো পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অনতিবিলম্বে অসহ্যকর এই জনদূর্ভোগ থেকে মুক্তি চায় স্থানীয়রা। যদিও পানি উন্নয়ণ বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ডিএনডি এলাকার মূল সমস্যা খাল দখল ও ভরাট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু ডিএনডি বাধ এলাকাই নয় বরং ফতুল্লার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিমনগর, শাসনগাঁও, উত্তর নরসিংপুর, কাশীপুর, দিঘুলিপট্টি, কাউয়াপাড়া, নয়াবাজার, মাসদাইর, ইসদাইর, লালপুর, পৌষারপুকুরপাড়া এলাকা। এসকল এলাকাগুলোতে ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। হাজারো মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে, কোনো কোনো এলাকায় কোমর পানি, কোথাও আবার রান্নাঘর পর্যন্ত ডুবে গেছে। নোংরা দূষিত পানিতে বাড়ছে নানা রোগের আশংকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, ডেমরা ও শ্যামপুর থানার মাতুয়াইল, তুষারধারা, আদর্শনগর, গিরিধারা, সাদ্দাম মার্কেট, দেলপাড়া, ভূইগড়, নয়ামাটি, জেলেপাড়া, বৌ-বাজার, ভাবিরবাজারসহ প্রায় প্রতিটি এলাকায় বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। নোংরা পানি ড্রেন উপচে উঠানে, রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে কুতুবপুর ইউনিয়নের আদর্শনগর এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সুজন মিয়া বলেন, কলেজে যেতে হচ্ছে পানি মারিয়ে। ঘরের উঠানে হাঁটুপানি।
ভাবির বাজার এলাকার বাসিন্দা পিনার জানান, রাস্তা তো ডুবে গেছে, ড্রেনের পানি মিশে পরিবেশ ভয়াবহ। এমন নোংরা পানিতে চলাচল করতে হচ্ছে। ঘরের ভেতরেও প্রবেশ করছে পানি।
ঢাকা যান্ত্রিক পাম্পহাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন, পাম্পহাউসে সব পাম্প চালু থাকলেও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি পাম্পের কাছে আসছে না। বিকেল পর্যন্ত পামগুলো চালু রাখলেও সন্ধ্যার দিকে পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আশা করছি আগামীকাল থেকে পাম্পগুলো সচল করা সম্ভব হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) শুভ আহমেদও একই সুরে বলেন, ডিএনডি এলাকার মূল সমস্যাই হচ্ছে খাল দখল ও ভরাট। খালগুলো পরিষ্কার হলে পানি সরানো সম্ভব হবে। পাম্প আমাদের সবগুলো ভালো আছে বন্ধ খাল গুলো খুলে দিতে পারলেই জলাবদ্ধতার সমাধান হবে।
এদিকে, এই জলাবদ্ধতার জন্য অবৈধভাবে দখল ও মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলা সরকারি খালগুলোকে একমাত্র দায়ী করছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, আর এবার দিনভর বর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা যেতে পারছে না স্কুল-কলেজে। মুসল্লিদের ময়লা পানি মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে মসজিদে।
অপরদিকে, ডিএনডি বাঁধ এলাকার স্থায়ী সমাধানে খাল উদ্ধার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। নয়তো প্রতি বর্ষা মৌসুমে এভাবেই পানির নিচে ডুবে থাকবে ডিএনডির লাখো মানুষের জীবন।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...