হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিকে
নারায়ণগঞ্জ শহরে অবস্থিত জেলার প্রধানতম ২টি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার মান ও ডাক্তারদের পেশাগত সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন হাসপাতালগামী সাধারণ মানুষ।
সাধারণ মানুষ জানান, হাসপাতাল দুটির জরুরি বিভাগে তেমন কোন সেবা পাওয়া যায়না। সাধারণ ছোট-খাটো সড়ক দুর্ঘটনা বা কাটাছেড়ার রোগীদেরও তেমন কোন চিকিৎসা না দিয়েই কর্তব্যরত ডাক্তার ঢাকা মেডিকেল রেফার করে দিয়ে দায়িত্ব সারেন। এছাড়া হার্ট এটাক বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের বিপি মাপার পরপরই জরুরি বিভাগের ডাক্তাররা ঢাকা মেডিকেল বা প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে আউট ডোর সেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় কয়েক সপ্তাহ যাবত অন্য ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অথচ তিনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এদুটি সরকারি হাসপাতালের আশেপাশে গড়ে উঠা কয়েকটি প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পরিক্ষা বা টেষ্ট, এক্সরে করতে পাঠান হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার এমন, অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন রোগী।
ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের নিচতলায় টিকিট কাউন্টারের কোন কোন কর্মচারী সকালে দেরীতে কর্মস্থলে আসায় সেবা প্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় বলেও জানান অনেক সেবা প্রার্থী।
খানপুর হাসপাতালে সেবা প্রার্থীদের তুলনায় টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা কম হওয়ায় সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সেবা প্রার্থীদের লম্বা লাইন দেখা যায় প্রায় প্রতিদিন।
খানপুর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আগত রোগীদের অধিকাংশ অভিযোগ করেন, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনকৃত সমস্ত ঔষধ, ইনজেকশন এমনকি সিরিঞ্জ পর্যন্ত বাইরে থেকে কিনে দিতে হয়।
এ বিষয়ে খানপুর হাসপাতালের সুপারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ হাসপাতালের ডাক্তাররা পরীক্ষার জন্য রোগীদের প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিক রেফার করেন না।
ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আরএমও’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুপুরের পর হাসপাতালের আউটডোর সেবা বন্ধ হয়ে গেলে হয়তো কোন কোন রোগীদের প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিকে পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য হাসপাতালের ডাক্তাররা পাঠিয়ে থাকেন।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...