ভূমিদস্যুতা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে তৈয়ব মিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর মৌজার জমি নিয়ে চলমান বিরোধের ঘটনায় মো. তৈয়ব মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ দখলদারিত্ব, নকশাবহির্ভূত নির্মাণ, মিথ্যা মামলা, হয়রানি এবং মব সৃষ্টির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিক এইচ. এ. এম. মাহমুদুর রহমান।
বুধবার (৫ আগষ্ট) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এসময় মাহমুদুর রহমান দাবি করেন, আরএস ১৩০ ও ১৩১ নম্বর দাগে তার ৭ শতাংশ এবং মনোয়ার হোসেন মৃদুলের ৯ শতাংশসহ মোট ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে। অপরদিকে মো. তৈয়ব মিয়া ২০২২ সালে ১৭ শতাংশ জমি কিনলেও যৌথ জরিপে তার দখলে ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে। বিরোধ নিষ্পত্তিতে জমি বিনিময়, বাজারমূল্যে তিন শতাংশ জমি ক্রয় অথবা পুরো জমি কিনে নেওয়ার তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হলেও তৈয়ব মিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরিতে যাতায়াতের জন্য উত্তর পাশে বিকল্প রাস্তা থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক তাদের জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতে চাওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, তৈয়ব মিয়া নিজেকে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচয় দিলেও তার প্রতিষ্ঠান বিকেএমইএ ও বিজিবিএ’র সক্রিয় সদস্য নয়। এছাড়া রাজউকের অনুমোদন ও ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করে সীমানা ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগও তোলা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
মাহমুদুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি মামলার তদন্তে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই সঙ্গে পিবিআইয়ের তদন্তেও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জমিতে মব সৃষ্টি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাপ প্রয়োগ এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে জমি দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ, নকশাবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি মেনে নেবেন, তবে নিজের বৈধ সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষার লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না।







আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...