মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সাংবাদিক স্বপন কুমার পোদ্দারের ইন্তেকাল রূপগঞ্জে দুর্গাপূজার অষ্টমীতে জাগো হিন্দু পরিষদের সেবাক্যাম্প উদ্বোধন তারেক রহমানই প্রথম পুরোহিতদের ভাতার প্রচলন করেছেন: খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ ডিসি ও এসপিকে জার্নালিস্ট ইউনিটির সম্মাননা স্মারক প্রদান আশার ছত্রছায়ায় হাজি সেলিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখলের চেষ্টা ও ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ফতুল্লায় বিএনপির বিরুদ্ধে এনসিপি নেতার উপর হামলার অভিযোগ বক্তাবলীতে ইটভাটা মালিকদের মতবিনিময় ষাটনলে লঞ্চ থেকে নামতে গিয়ে মেঘনায় নিখোঁজ নারায়ণগঞ্জের রবিন ফতুল্লার ভূঁইগড় বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা জব্দ, বিক্রেতাকে জরিমানা

পোলাও চালের বাজারে অস্থিরতা ও তদারকির প্রয়োজন

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ১৭৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

দেশের দেশের বাজারে পোলাও চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি প্রায় ৭০ টাকা এবং এক সপ্তাহেই প্রায় ৪০ টাকা দাম বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক বাজার আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুগন্ধি চালে ভেজাল ও জালিয়াতির অভিযোগ। ফলে ভোক্তারা একদিকে যেমন অতিরিক্ত দাম দিচ্ছেন, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সুগন্ধি চাল মূলত উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ উপলক্ষে বেশি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক পরিবারের জন্য এই চাল ক্রয় প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও মূল্যবৃদ্ধি কেন ঘটছে-এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের একাংশের অভিযোগ, বড় মিল মালিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুগন্ধি ধানের উৎপাদন কমে যাওয়া, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধিই মূল্যবৃদ্ধির কারণ। এই দুই অবস্থানের মধ্যে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ভেজাল সুগন্ধি চালের বিস্তার আরও উদ্বেগজনক। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, কমদামি আতপ চালের সঙ্গে কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে কিংবা বিভিন্ন জাতের চাল মিশ্রিত করে খাঁটি চিনিগুঁড়া বা কালিজিরা চালের নামে বিক্রি করা হচ্ছে। এটি শুধু ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণাই নয়, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযানে ভেজাল ও নকল মোড়কে চাল বিক্রির অভিযোগে জরিমানার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় কী কারণে দাম বাড়ছে, মজুতদারি বা কারসাজি হচ্ছে কি না এবং কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না-এসব বিষয়ে নিয়মিত তদন্ত ও পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে ভেজাল প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণার সাহস না পায়। দীর্ঘমেয়াদে সুগন্ধি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কেনেন এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। বাজারে ন্যায্য মূল্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। পোলাও চালের বাজারে বিদ্যমান অস্থিরতা ও ভেজালের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে শুধু ভোক্তার স্বার্থই সুরক্ষিত হবে না, বাজারেও আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর