পানি হীন ব্রক্ষ্মপুত্রে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরী ..
‘’নদীর একুল ভাঙ্গে ও কূল গড়ে
এইতো নদীর খেলা’’নবাব সিরাজউদ্দৌলা সিনেমার গানটি চার যুগ পেরিয়ে গেল এখনো গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এর মূল কারন নদী ভাঙ্গা গড়ার খেলা গ্রাম বাংলার আবহমান জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত এমনটাই মনে করেন অনেকে। এদিকে খরস্রোতা নদীর ভাঙ্গনের তোড়ে গ্রামের পর গ্রাম নদ নদীর গর্ভে বিলীন হলেও নদীর পানি প্রবাহ পূর্বের তুলনায় বর্তমানে কমে আসা ভাঙ্গা মাটি নদীর পানিতে একস্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হতে পারছে না বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। এ কারনে গ্রামের পর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হলেও নদীর চর পড়ছে তুলনামূলকভাবে কম। ফলে গ্রাম ভাঙ্গা মাটির বৃহদাংশ নদীর গর্ভে পড়ে থাকায় নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
নারায়নগন্জ জেলার বন্দর উপজেলাধীন সাবদী এলাকায় অবস্থিত পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র
নদীর পূর্ব পাশে মেঘনা পশ্চিম পাশে শীতলক্ষ্যা এবং দক্ষিণ পাশে ধলেশ্বরী নদী প্রবাহিত। তবে নদী গুলির বর্তমান অবস্থা তেমন খারাপ না হলেও ব্রক্ষ্মপুত্রের মৃত অবস্খা এখন দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
নদটির চারপাশ জুড়ে গড়ে উঠেছে ফুলের খামার। হাজার হাজার খামারিরা এখানে প্রতিদিন কয়েকশো টন ফুল উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করেছেন। এলাকাবাসী জানায় ব্রক্ষপুত্রের অদূরে অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং বালু উত্তোলনের ফলে নদে পানির প্রবাহ কমে আসায় নদটি নাব্যতা হারিয়েছে।
নদী বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপকালে তারা জানান পরিকল্পিত ভাবে ড্রেজিং করা হলে পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে। নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় ড্রেজিং কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায় সরকারের ড্রেজিং পরিকল্পনা রয়েছে তবে কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে তা জানা যায় নি।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, হিন্দু ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান এ নদের এই স্থানেই পালিত হয়ে থাকে। এ নদের পরিধি সোনারগাঁও উপজেলায়ও রয়েছে তীর্থযাত্রীরা সেখানেও তীর্থস্থানে অংশ নিয়ে থাকেন।
ভুক্তভোগী লোকজন জানায় নদটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় নৌ চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভাটার সময় নদীর পানি প্রবাহ কম থাকায় যাত্রার জন্য জোয়ারের অপেক্ষা করতে হয়। এলাকাবাসীর অভিমত নদটি ড্রেজিং করা হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের বিশেষ অবদান রাখতে পারবে।






আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...