না’গঞ্জবাসী যেনো দীর্ঘকাল থেকেই মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার মত একজন প্রশাসকের প্রয়োজন বোধ করছিলো
মানুষ মানুষের জন্য। এই স্লোগানটি বিরাজমান থাকলেও এখন আর মানুষের জন্য মানুষ নেই বললেই হয়। নিম্ন শ্রেনী থেকে উচ্চ শ্রেনীর সকলেই ব্যস্ত নিজ নিজ স্বার্থের জন্য, বিশেষ করে সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা যে জেলাতেই যোগদান করে, রুটিন মাফিক কাজের মধ্য দিয়ে কর্মকাল পার করে চলে যায়। অথচ, জেলার উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা যদি মনে করে, তার ক্ষমতা যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করে জনকল্যানে কাজ করবে, তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব, যার দৃষ্টান্ত নারায়ণগঞ্জ জেলায় রচনা করেছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
গত বছর ৫ আগস্টের পর অন্যান্য জেলার মতো নারায়ণগঞ্জ জেলাতেও জনপ্রতিনিধি শুন্য হয়ে পরে, তাছাড়া দেশের অবস্থা যে কেমন ছিল তা কারো অজানা নেই। দেশের অন্য যে কোন জেলার চেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত। এই জেলায় যারা চাকুরি করতে আসে, কিংবা যাদের বদলী করা হয়, জেলায় যোগদান করার পর, অনেকে আশার বাণী শুনিয়ে থাকে, কিন্তু রুটিনের বাইরে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে, কিংবা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সমস্য সমাধান নিয়ে, জনস্বার্থে কিছু না করে কর্মকালীন সময় পার করে চলে যাওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জবাসীর শুধু প্রশংসাই করে যান।
দেশের চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাা ‘মানবিক ডিসি’ উপাধী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রায় ৯ মাস আগে যোগদান করে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতী, যানজট, হকার সমস্যা, জলাবদ্ধতা, ডিএনডিবাসীর পানিবন্দি জীবন, ব্যবসায়ী মহলে অস্থিরতা, সরকারি প্রতিটি অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে বদলী আতংক, নাসিক বাসীদের সমস্যা, পাসপোর্ট অফিস নিয়ে জনগনের মাঝে বিরম্বনা, হাসপাতাল দুটি ছিলো নানা সমস্যায় জর্জরিত, গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতাসহ গোটা জেলা জুড়েই অতঙ্ক বিরাজ করছিল।
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া যোগ দেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ নিয়ে যেসকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, তাতে তিনি অতীতের সকল জেলা প্রশাসকের কার্যক্রমের রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রমান করেছে, নারায়ণগঞ্জে চাকুরী করতে আসেননি। নারায়ণগঞ্জ যেনো তার জন্মস্থান। এই জেলার মা-মাটি-মানুষ যেনো দীর্ঘকাল থেকেই মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার মত এমন এক জেলা প্রশাসকের প্রয়োজন বোধ করে আসছিলো, দেরীতে হলেও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার জেলায় যোগদান এবং কয়েক মাসের কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জবাসীর মাঝে আশার আলো ফুটে উঠেছে।
আমরা আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই বেশি করি। কারো পক্ষ নিয়ে সত্য কথা বললে দালাল, চাটুকার হিসেবেও লেখককে নিয়ে মন্তব্য করা হয়। তবে, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর আজ পর্যন্ত তিনি জেলাবাসীর জন্য যে দাযিত্ব পালন করেছে তার সকল কার্যক্রম লেখা হলে কট্টর সমালোচকরা ঐক্যমত পোষন করবে, এই বিশ^াস আমার আছে। কারন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার গুন-কির্ত্তনের জন্য এই লেখা না। একজন দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সৎ ইচ্ছা যে গোটা জেলা বাসীকে জাগ্রত করে তোলে, কিংবা তুলতে পারে তা বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।
এখন প্রশ্ন হলো? জেলায় যোগদান করার পর জেলা বাসীর জন্য তিনি কি করেনি? ঈদগাহ, মসজিদ, মন্দির, অর্থভাবে কন্যাদায়গ্রস্থ বাবার মুখে হাসি ফোটানো, শতায়ু বর্ষী মহিলাকে খুঁজে বের করে তাকে নানা ভাবে সহযোগীতা করা, আগুনে পুড়ে যাওয়া হকার্স মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্থ’ দোকানীদের আর্থিক সহযোগীতা, প্রায় ১ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নবকিশলয় স্কুলে গত ৫০ বছরে এই প্রথম কোন জেলা প্রশাসক উপস্থিত হয়ে তাদের খোঁজ খবর নেওয়া, চার হাজার ট্রাক ময়লা অপসারণসহ নারায়ণগঞ্জ স্টেডিয়ামের জন্য প্রায় দুই কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ এবং বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষদের নানা ভাবে সহযোগীতা, সরকারী বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার, রোগীদের সেবার মান বাড়ানোর জন্য হাসপাতালগুলিতে খবরদারী করা, পাসপোর্ট অফিসের উদ্বোধন, পাসপোর্ট অফিস দালালমুক্ত করা, সেবামুলক প্রতিষ্ঠানগুলিতে অর্থদান, জেলার অজপাড়া গায়ের মন্দিরের পূজো উৎসবে উপস্থিত হওয়া, ইতিহাস ঐতিহ্যের নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে বৃক্ষ রোপণ করে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেছে, ‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি হবে বিশ^সেরা নারায়ণগঞ্জ হবে সবুজে ঘেরা’। গ্রীন এন্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ কর্মসূচীর আওতায় গ্রীন আমব্রেলা উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পেশাদার গাড়ি চালক ও হেলপারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ পরবর্তী ইউনিফ্রম ও পরিচয় পত্র প্রদান অনুষ্ঠান করে নজিরবিহীন ঘটনার সৃষ্টি করেছে জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রোজার ঈদ ও কোরবানীর ঈদে জেলা জুড়ে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। তিনি যোগদানের পরপরই রমজান মাস শুরু হয়, মুসলমানদের দুটি ধর্মীয় উৎসবে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা যাতে করে শতভাগ অনুকুলে রাখা যায়, কঠোর মনোভাব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে দু’টি শান্তির ঈদ উপহার দেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
হিন্দু ধর্মালম্বিদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসব। পূজা এলেই নানা ধরণের কথা বাতাসে বইতে শুরু করে। এবারের পূজায় আলোচনার শুরুতেই জেলা প্রশাসক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পূজা সুস্থ’ ও সুন্দর ভাবে পালনের জন্য নিরাপত্তার চাদরে পুরো নারায়ণগঞ্জকে ঢেকে দিয়েছিল। পূজার শুরু থেকেই বিসর্জনের দিন পর্যন্ত যাতে করে হিন্দু ধর্মালম্বি লোকজন নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারে তার জন্য জেলা প্রশাসক কঠোর মনোভাব নিয়ে অধিনস্তদের কাজে লাগিয়ে পর্যবেক্ষন করেন এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিসর্জনের কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়।
এক বছর অতিক্রম করার পূর্বেই, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলাবাসীর কল্যানের জন্য উন্নয়নসহ গোটা জেলাকে সাজানোর জন্য সকল স্তরের মানুষের সাথে যে বন্ধন তৈরি করেছে, তাতে করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে নিয়ে সকল শ্রেনীর মানুষের মনে সীমাহীন প্রশ্নের শেষ নেই। সকল স্তরের মানুষের কাছ থেকে একটি কথাই উঠে এসেছে, সদিচ্ছা থাকলে একজন জেলা প্রশাসক জেলাকে জেলার জন্য কতো কি যে করতে পারে, আগামী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বিগত দিনগুলিতে জেলা প্রশাসক হয়ে যারা দাযিত্ব পালন করেছে, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনগুলি কেউ মাছ শিকার, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, সার্কিট হাউজে গানের আসর থেকে শুরু করে কেউ কেউ নিজেকে জাহির করার জন্য এলিট শ্রেনীর মানুষের জন্য লুচি আর মুরগীর মাংস আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে জেলার এলিট শ্রেনীর মানুষদের সাথে সৌহর্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেছে। সাধারণ মানুষ ইচ্ছা করলেই তাদের দারস্থ হতে পারতো না।
শুক্র ও শনিবার অন্য পাঁচটি দিনের মতোই বিরামহীন ভাবে কাজ করতে গিয়ে তিনি যেনো যন্ত্রচালিত মানুষ হিসেবে ইতিমধ্যে সর্বত্র পরিচিতি লাভ করেছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়েই অধিনস্থদের সাথে নিয়ে জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যাওয়া, সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যা সমাধান করে দেওয়া, জেলায় যোগদান করার পর থেকে জণগনের কল্যাণকর কাজ করার জন্য বন্ধের দিনগুলিতেও তিনি রুটিনে পরিণত করেছে। অন্যান্য দিনের মতো শনিবারেও যথা সময়ে অফিসে এসে নতুন নতুন কাজের পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা, তাছাড়া জেলার মুচি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত সকল শ্রেনীর মানুষের সাথে সাক্ষাৎ এর অনুমতি ছিলো তার কার্যালয়ে, ধৈর্য্যসহকারে তাদের কথা শুনে নিয়মনীতি মেনে তড়িৎ কাজ করে দিয়ে জেলাবাসীর মাঝে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
আমরা যারা লেখালেখি করি, বেশীরভাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি হয়ে কলম ধরি, সরকারি, বেসরকারি, শিল্পপতি কিংবা রাজনীতিবিদ যে হউক, তাদের নামে যদি অনিয়মের কোন কথা শুনি, তখন তার আরও খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য আধাজল খেয়ে মাঠে নামি। অন্যায় ও অপরাধের খবরটি কার আগে কে প্রকাশ করবে সকল কলম যোদ্ধারা প্রতিযোগীতা শুরু করি। আবার কেউ ভালো কিছু করলে, তা যদি লেখা হয়, সমালোচকরা সোজা না দেখে বাকা চোঁখে দেখে নানা ভাবে মন্তব্য করে থাকে। তারা ভেবে দেখে না একজন মানুষের সফলতা যদি তুলে ধরা যায় তাহলে ঐ ব্যক্তির মাঝে কাজ করার উৎসাহ বাড়ে এবং নবউদ্যোগে আরও ভালো ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হয়।
একজন জেলা প্রশাসক সর্বোচ্চ একটি জেলায় দুই বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারে না। মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেও অনেকে চলে যায়। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নানা কারণে নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কিংবা সরকারি অন্য দফতরে বদলী করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে নিয়ে সুধিজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, ও ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে বিশিষ্ঠজনসহ কট্টোর সমালোচকদের মাঝেও ব্যপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সর্বত্রই প্রশ্ন একটাই? জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা গত কয়েক মাসে গোটা নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল কার্যক্রমকে যেভাবে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে, যদি নির্বাচনের কথা বলে তাকে বদলী করা হয়, তাতে করে জেলাবাসীর মাঝে যে আশার আলো ফুটে উঠেছে, তা সাথে সাথে আমাবস্যার অন্ধকারের মতো গোটা নারায়ণগঞ্জ আধারে ঢেকে যাবে।
সুত্র মোতাবেক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা কেন্দ্রীয় ইদগাহ থেকে শুরু করে সারা জেলায় যে সকল কাজ হাতে নিয়ে, যে রোড ম্যাপ তৈরি করেছে তা সম্পুর্ণ করতে হলে আরও প্রায় এক বছরের মতো তাকে এই জেলায় থাকতে হবে। অন্য কেউ আসলে বুঝতে বুঝতেই এক বছর চলে যাবে। যদি কোন কারণে তাকে বদলী করা হয় তাহলে উন্নয়ন বঞ্চিত জেলাবাসী বছরের পর বছর যে বিড়ম্বনার সাথে যুদ্ধ করে এসেছে। নিমিষেই যে থেমে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সকল স্তরের মানুষের দাবী উঠতে শুরু করেছে, নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে অন্তত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা যেন তার মেয়াদকাল দুই বছর পার করে যেতে পারে। এটাই নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।
লেখক- এস এম ইকবাল রুমী
সাংবাদিক, কলাম লেখক, নাট্যকার








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...