শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পার্কের লেকে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু আড়াইহাজারে শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি রূপগঞ্জের মধুখালীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, হাত পা বেধে স্বর্ণ ও টাকা লুট, জনমনে আতঙ্ক সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের উচ্ছেদ অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফের দখলে হকাররা সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়না। সোনারগাঁয়ে পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু রূপগঞ্জে অনুমোদনহীন ভাবে ভোজ্যতেল ব্লেন্ডিং, দুই প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা কাশিপুর হাটখোলা এলাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে স্থানীয় জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। আসামি পলায়নের ঘটনায় সেই এস আই পুনর্বহাল! পিএমকের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জোনের নিতাইগঞ্জ শাখায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কঠিন নির্বাচনে ‘জটিল’ সমীকরণ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ৩৯৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়ছে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের মধ্যকার উত্তাপ। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে, বিভিন্ন জড়িপের মধ্য দিয়ে পরখ করা হলেও এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে বিএনপির বহু হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। রয়েছেন অনেক ত্যাগী নেতাও। এদের মধ্য থেকে কাকে বেছে নেওয়া হয় বিষয়টা এখনো রয়েছে অনেকটাই ধোয়াসার মধ্যে। যদিও বহু বিএনপি নেতা ইতিমধ্যেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে লাগিয়েছেন বিভিন্ন ব্যনার-ফেস্টুন।

তবে, এবারের জাতীয় নির্বাচন সহজ হবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এবার নিজেদের ভোট প্রদানের সুযোগ পাবে সাধারণ জনগন। ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ভোটের মাঠে কারচুপি এবার অসম্ভব। তাই এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়ী হতে হবে নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলির মধ্য দিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপির পাশাপাশি নির্বাচনের মাঠে সমান অবস্থানে রয়েছে অন্যান্য দলগুলো। বিশেষ করে জামায়াত। তাই এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রার্থীদের জয়ী হওয়াটা অনেকটাই কষ্টসাধ্য হবে। এছাড়া শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপরিতে বিএনপির হাইকমান্ডকেও শক্ত প্রার্থীকে বাছাই করে মনোনয়ন দিতে হবে।

সূত্র মতে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট একাধীক প্রার্থী থাকায় মাঝে মাঝেই উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে আবার সুযোগ বুঝে করছেন বিভিন্ন মন্তব্যও। যে আসনগুলোতে জটিলতা বা সমস্যা রয়েছে সেইসকল আসনে এবার প্রার্থীতার পরিবর্তন আসতে পারে। বিতর্কিত কাউকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। নিজ এলাকায় জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজসম্পন্ন ব্যক্তিদের এসকল আসনে দলীয় প্রার্থী করা হবে। তাই যেসকল আসনে একাধীক প্রার্থী রয়েছে কিংবা নানা গ্রুপিং বিরাজমান, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা তাদের নিজ দায়িত্বে দলের নির্দেশ জানিয়ে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির মত বড় দলের বিপক্ষে নির্বাচন করাটা জামায়াত কিংবা অন্যান্য দলের পক্ষেও সহজ হবে না। এরই ধারাবাহিকতায়, বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের সমর্থন চাইতে শুরু করেছেন বিভিন্ন দলের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীগণ। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাদের গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। এখনো পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলেও মাঠ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থা শক্ত করছেন বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ।

এবার নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জে বিভিন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিবিদেরাও সমান তালে এগিয়ে চলেছেন। সমর্থনও পাচ্ছেন ব্যপক। এর মধ্যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দীপু, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর জামায়াতে ইসলামের আমির ও ছাত্রশিবীরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জব্বার অন্যতম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে:-
নারায়ণগঞ্জ- (রূপগঞ্জ): এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নের প্রত্যাশার মধ্যে আছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দীপু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন রূপগঞ্জ থানা কর্মপরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন মোল্লা। খেরাফতে মজলিসের প্রাথর্ িহিসেবে আছেন রূপগঞ্জ থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে আছেন রূপগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মুফতি এমদাদ উল্রাহ হাসেমী। সিপিবি তাদের প্রার্থী ঘোষণা না করলেও এই তাদের পক্ষ থেকে এই আসনে উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান চন্দনের নাম শোনা যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার): এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন আশা করছেন দলের ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, দলের সহ-অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা। এ ছাড়া এ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলের মহানগর কমিটির সহসভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহ হাবিব। সিপিবি থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও ও বন্দর): এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রেজাউল করিম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এ ছাড়া মনোনয়ন চাইছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এস এম অলিউর রহমান আপেল, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বকুল।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য, অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইকবাল হোসাইন ভূইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলের উপজেলা কমিটির সেক্রেটারি ফারুক আহাম্মদ মুন্সি। এ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলের সোনারগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি সিরাজুল ইসলাম। সিপিবি থেকে ভোটে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল সালাম বাবুল। এখানে বাসদের প্রার্থী হিসেবে দলের উপজেলা সমন্বয়ক বেলায়েত হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। এনসিপি থেকে প্রার্থী হতে পারেন দলের কেন্দ্রীয় সংগঠক তুহিন মাহমুদ। গণসংহতি আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন উপজেলা কমিটির সমন্বয়ক মোমিন হোসেন প্রান্ত।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (নারায়ণগঞ্জ সদর): এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহ আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বার। এছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল মাদানী। এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলের জেলা কমিটির সদস্য মশিউর রহমান রিচার্ড এবং জেলা কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ সুজন। এই আসনে সিপিবির হয়ে ভোটে লড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন, বাসদের হয়ে ভোটের মাঠে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও জেলা কমিটির সভাপতি সেলিম মাহমুদ। গণঅধিকার পরিষদ থেকে নাম শোনা যাচ্ছে দলের মহানগর কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আরিফ ভূঁইয়ার।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন): এই আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন তিনবারের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, প্রাইম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর আহাম্মেদ বাবুল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান।

এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনউদ্দিন আহমদকে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী করা হয়েছে দলের মহানগর কমিটির সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহকে। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলের যুগ্ম মহাসচিব এ বি এম সিরাজুল মামুন, গণসংহতি আন্দোলনের মনোনয়ন চাইছেন দলের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম জেলা কমিটির সেক্রেটারি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু। এখানে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলার কার্যকরী সদস্য মন্টু ঘোষ ভোটযুদ্ধে লড়তে চাইছেন। লড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাসদ থেকে দলের জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম বিপ্লব।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর