একটি প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস থেকে দূরে রাখা হয়েছে: মাসুদুজ্জামান
নারায়ণগঞ্জে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও গণভোজের আয়োজন করেছেন শিল্পপতি ও সমাজসেবক মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এসময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং একটি প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস থেকে দূরে রাখা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বরফকল মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর বিএনপি নেতা মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বছরের পর বছর ধরে তার অবদানকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ইতিহাসকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই দেশের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়নি। একটি প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সত্য ইতিহাস তাদের সামনে তুলে ধরা।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, শিল্পায়ন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আজও মানুষ স্মরণ করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিল।”
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলের ঐক্যই সংগঠনের মূল শক্তি। ঐক্যবদ্ধ বিএনপিই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং দেশের উন্নয়নে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জিয়াউর রহমানের আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক।
আলোচনা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফেরাত কামনা এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করা হয়।
পরে অনুষ্ঠানে আগত প্রায় সহস্রাধিক মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ জিয়ার আদর্শ ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...