বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের সরকারি সেবার পাঠ দিতে নারায়ণগঞ্জ সদরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভূমি অফিসে অনিয়ম, ডিসির ‘জিরো টলারেন্স’ ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সফল করতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে জামায়াতের গণমিছিল শাওনের কাছে আমরা ঋণী: খোরশেদ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ নয়, শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান সাখাওয়াতের ফতুল্লায় পরিত্যক্ত কারখানায় মিলল বিদেশি রিভলবার ও গুলি আইন হাতে নিলে কাউকে ছাড় নয়, ব্যবস্থা নেবে সরকার: সেতু প্রতিমন্ত্রী ‘জনগণকে রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব, সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া দরকার’ অফিসে অনুপস্থিত, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর: নারায়ণগঞ্জে ভূমি অফিস পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী লিংক রোডে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে চেম্বার ও বিকেএমইএর জেলা পুলিশে চেক হস্তান্তর

ভূমি অফিসে অনিয়ম, ডিসির ‘জিরো টলারেন্স’

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ১১ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভূমি অফিসে গিয়ে সেবা নিতে ভোগান্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতি, সময়মতো অফিস না খোলা, হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর, দালালের দৌরাত্ম্য আর ঘুষের অভিযোগ- সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের ভূমি সেবা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। একের পর এক আকস্মিক পরিদর্শনেও অনিয়মের চিত্র ধরা পড়ছে। এমনকি দুই প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনেও একই ধরনের অনিয়ম সামনে এসেছে। এরপরও পরিস্থিতির পুরোপুরি পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা।

এবার কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জের ভূমি সেবায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। অনিয়মের প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুধু শোকজ কিংবা তদন্ত নয়, অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান। তিনি বলেন, ভূমি সেবাকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একজন নাগরিক ভূমি অফিসে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, রাষ্ট্রের কাছে সেবা নিতে আসেন। তাই তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। পরিদর্শনের সময় অফিসের বড় একটি অংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টিও ধরা পড়ে।

ঘটনার পর দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ ২০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এর কয়েক মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনেও উঠে আসে প্রায় একই চিত্র। তৎকালীন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অফিস ছিল তালাবদ্ধ। অনুপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ায় ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ কিংবা রেকর্ড সংশোধন—প্রায় প্রতিটি সেবাতেই দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ করছেন নাগরিকরা। নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে বারবার অফিসে ডাকা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেবাগ্রহীতাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ঘুষ নিয়ে। তাদের দাবি, আর্থিক সুবিধা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ফাইল এগোয় না। অনলাইনে আবেদন করার পরও শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পেছনে ঘুরতে হয়।

এক সেবাগ্রহীতার ভাষ্য, সরকার ডিজিটাল সেবা চালু করলেও বাস্তবে ভোগান্তি কমেনি। অনলাইনে আবেদন করার পরও কাজের জন্য অফিসে গিয়ে আগের মতোই ঘুরতে হচ্ছে।

ভূমি অফিস ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা নিতে গিয়ে জটিলতায় পড়লেও দালালের মাধ্যমে দ্রুত কাজ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

দালালমুক্ত ভূমি অফিস গড়তে ইতিমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৪ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নেও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘ভূমি সেবাকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি হাতে নিয়েছি। অনিয়মের প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সেবাগ্রহীতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেউ ফাইল আটকে তালবাহানা করলে, টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার কথা বললে কিংবা দালালের মাধ্যমে আসতে বললে সঙ্গে সঙ্গে আমার কাছে অভিযোগ দিন। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, নাগরিকদের অভিযোগের মাধ্যমেই দুর্নীতিমুক্ত শতভাগ ভূমি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগের সুযোগ তৈরি করতে জেলার প্রতিটি ভূমি অফিসে জেলা প্রশাসকের মোবাইল নম্বর টাঙিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো সেবাগ্রহীতা ঘুষ, হয়রানি কিংবা ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ থাকলে সরাসরি জেলা প্রশাসককে জানাতে পারবেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা, নামজারি ও খতিয়ান সংক্রান্ত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

তার ভাষায়, ভূমি অফিসে কোনো ধরনের গাফিলতি, অনিয়ম বা হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশেষজ্ঞ ও সেবাগ্রহীতাদের মতে, শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা তদন্তে ভূমি অফিসের দীর্ঘদিনের অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হবে না। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি।

তাদের মতে, আকস্মিক পরিদর্শনের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক হাজিরা, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই, নামজারি ও খতিয়ান নিষ্পত্তিতে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মানা এবং কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি।

দুই প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনে ভূমি অফিসের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা প্রশাসনের জন্য নিঃসন্দেহে সতর্কবার্তা। জেলা প্রশাসকের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এখন কতটা বাস্তবে কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়। কারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্ন একটাই- শোকজ আর আশ্বাসের বাইরে এবার কি সত্যিই বদলাবে ভূমি অফিসের চিত্র?

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর