শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

পাতিল দৌড়ে মাতলো রূপগঞ্জ, ফিরলো গ্রামীণ ঐতিহ্য

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ১৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

একসময় বর্ষা এলেই রূপগঞ্জের পুকুর-জলাশয়ে বসতো গ্রামীণ খেলাধুলার আসর। নৌকা বাইচ, পাতিল দৌড়সহ নানা আয়োজনে মুখর থাকতো গ্রামের পর গ্রাম। সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই অতীত। শিল্প-কারখানা, নগরায়ন আর আবাসন প্রকল্পের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর, খাল-বিল। সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার চিরচেনা খেলাধুলাও।

তবে হারিয়ে যাওয়া সেই ঐতিহ্যের কিছুটা যেন ফিরে এলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। শনিবার বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব গ্রামে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাতিল দৌড় প্রতিযোগিতার। স্থানীয় যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন শত শত নারী-পুরুষ। ছোট্ট জলাশয়কে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

খেলা শুরু হতেই দর্শকদের মধ্যে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। পানিতে পাতিলের ওপর দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রেখে ছুটতে থাকেন প্রতিযোগীরা। কখনো কেউ হেসে পানিতে পড়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ সামলে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বিজয়ের দিকে। প্রতিটি মুহূর্তে দর্শকদের করতালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিভিন্ন এলাকার মোট ৯ জন খেলোয়াড়। নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তারা। কয়েকটি ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে দিঘুলিয়া গ্রামের সোলমান মিয়া বিজয়ী হন। চূড়ান্ত পর্বে তার দক্ষতা ও ভারসাম্য দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।

দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন কেরাব গ্রামের নুরুল হক। তৃতীয় হন কলাতলী গ্রামের আলামিন। বিজয়ী সোলমান মিয়ার হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় ২১ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন। দ্বিতীয় বিজয়ী পান একটি মোবাইল ফোন এবং তৃতীয় বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ঘড়ি।

প্রিয় প্রতিযোগী বিজয়ী হওয়ায় দিঘুলিয়া গ্রামের দর্শকদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উচ্ছ্বাস। অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন দেখতে পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন বিভিন্ন বয়সী দর্শক।

আয়োজকরা জানান, শুধু বিনোদন নয়, তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায়ী দেওয়ান আশরাফুল। প্রধান অতিথি ছিলেন কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিকুল ইসলাম খান।

ব্যবসায়ী দেওয়ান আশরাফুল বলেন, এলাকার যুবকদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে। পাতিল দৌড়ের পাশাপাশি ক্রিকেট, ফুটবল ও হাডুডুসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও এসব আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিকুল ইসলাম খান বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব। সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন। নেতাকর্মীদেরও খেলাধুলার দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় দর্শনার্থীরা বলেন, একসময় বর্ষা মৌসুমে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এমন আয়োজন ছিল নিয়মিত। এখন পুকুর-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগ নেই। বিভিন্ন হাউজিং প্রকল্প ও নগরায়নের কারণে জলাশয় কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোও বিলুপ্তির পথে। তাই সীমিত পরিসরে হলেও এমন আয়োজন ধরে রাখা প্রয়োজন।

তাদের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় রূপগঞ্জের চেহারা বদলে গেলেও গ্রামীণ ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব খেলা তুলে ধরতে নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় জলাশয়গুলো সংরক্ষণ করাও জরুরি।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর