মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাজের মানে আপস নয়, ত্রুটি পেলেই জানাতে বললেন এমপি আল আমিন স্পেনের পায়ের জাদুতে থামল মেসির স্বপ্ন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি ও সমঅধিকার চান এমপি আল আমিন নাসিক প্রশাসকের সঙ্গে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাষ্ট না’গঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ সাখাওয়াত, মামুন মাহমুদ ও রাজীবকে চেম্বারের সংবর্ধনা রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর : না’গঞ্জে আহত সাংবাদিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ না’গঞ্জকে সেফ সিটি গড়তে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ সাংবাদিক নেতা ও আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুমের জন্মদিন আজ না’গঞ্জ শহরের সড়ক ডিভাইডার পরিষ্কার করে বৃক্ষরোপণ করবে নাসিক নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী সোহাগকে ফুলেল সংবর্ধনা

রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর : না’গঞ্জে আহত সাংবাদিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ৪ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর : না’গঞ্জে আহত সাংবাদিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ

একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মূল উৎপাটন ও বৈষম্যবিহীন রাষ্ট্র গঠনে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পার হলো। স্বৈরাচার পতনের সেই ভয় ও আতঙ্কের দিনগুলোতে মাঠের অগ্রভাগে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
দেশজুড়ে এই আন্দোলনে কয়েক হাজার সাংবাদিক আহত এবং বেশ কয়েকজন বুলেটের আঘাতে নিহত হন। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আন্দোলনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই আহত সাংবাদিকদের খোঁজ নেয়নি কেউ।
ফ্যাসিস্টবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নানামুখী চাপ এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন বেশ কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী।
আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে আহত ও অবহেলার শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইয়াদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, নয়া দিগন্তের ফটো সাংবাদিক সবুজ, জাগো নিউজ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের এর জেলা প্রতিনিধি মোবাশ্বর শ্রাবন, দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আল-আমিন প্রধান, একাত্তর বাংলা অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক আল আমিন, টুডে টাইমসের সম্পাদক তানজিমুল হাসান মায়াজ, বাংলার চোখের সাইফুল ইসলাম এবং বাংলার চোখ ও বাংলা বাজার পত্রিকার ইউসুফ আলী প্রধান, এনএএন টিভির স্টাফ রিপোর্টার শাহজাহান চৌধুরী মাসুম ।
কিন্তু আজ দুই বছর পরেও তাদের এই ত্যাগের কোনো মূল্যায়ন কিংবা খোঁজখবর নেওয়ার মানসিকতা দেখায়নি কোনো পক্ষ।

আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো কোনো সরকারি তালিকাভুক্তির আওতায় আসতে পারেননি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলো আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিলেও আহত সাংবাদিকদের বিষয়ে কার্যত কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তারা দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য, জেলা প্রশাসন, জেলা তথ্য অফিস এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আহ্বানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও এখনো ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি তাদের জন্য হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন তারা।
আহত সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকরা কোনো স্বীকৃতি বা সুবিধার আশায় নয়, বরং পেশাগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তবে রাষ্ট্র বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য চেয়ে নেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন।
তারা আরও জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জের একটি স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম তাদের সম্মাননা দিলেও এরপর আর কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। যদিও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আহত সাংবাদিকদের জন্য একটি সংবর্ধনা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল।
সেই রক্তঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে টুডে টাইমসের সম্পাদক তানজিমুল হাসান মায়াজ গভীর ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন ”সেদিন চারদিকে শুধু বুলেটের শব্দ, টিয়ারশেল আর মানুষের আর্তনাদ ছিল। পেশাগত দায়িত্ব আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠ ছাড়িনি। সত্যটা মানুষের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে আমরা নিজেরা রক্তাক্ত হয়েছি, পঙ্গুত্বের মুখোমুখি হয়েছি।
কিন্তু আজ দুই বছর পর এসে খুব কষ্ট হয় যখন দেখিযে বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ছাত্র-জনতার সাথে আমরাও রক্ত দিলাম, সেই নতুন বাংলাদেশে আজ আমাদের কেউ একটা ফোন দিয়েও খোঁজ নেয়নি। আমরা কোনো আর্থিক অনুকম্পা চাই না, কিন্তু মাঠের সাংবাদিকদের এই চরম অবহেলা ও বিস্মৃতি সত্যিই বেদনার।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যেকোনো আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা থাকে অনস্বীকার্য। অথচ জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তিতে যখন নানা আয়োজন হচ্ছে, তখন মাঠের লড়াকু এই সাংবাদিকদের পাশে না দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের এক বড় ব্যর্থতা। আহত সাংবাদিকরা আজও সেই ভয়াল দিনের ক্ষত শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু তাদের কপালে জুটেছে কেবলই চরম অবহেলা।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর