শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বিএনপি সরকার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী: এমপি কালাম ফতুল্লায় ব্যবসায়ী মোতালেব হত্যায় মূলহোতাসহ ৩ জন গ্রেফতার বাসাবাড়ির ময়লা ফেলা কর্মীদের ১০০ টাকার বেশি দিবেন না: সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা, তদন্তে প্রশাসন মাদকবিরোধী অবস্থানের জেরে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: নাজমুল হাসান বাবু জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি, নারায়ণগঞ্জে খেলাফত মজলিসের মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন বন্দর হরিপুরে দ্বিতীয় দফায় অবৈধ চুন কারখানা গুঁড়িয়ে দিল তিতাস ‘নাজমুল হাসান বাবুর মতো তোকে ফাঁসাব’, পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ‘নতুন থ্রি এম’ নাকি ‘থ্রি আর’-এর পুনর্জন্ম? নারায়ণগঞ্জে তোষকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

‘নতুন থ্রি এম’ নাকি ‘থ্রি আর’-এর পুনর্জন্ম?

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ৪৮ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

২০০২ সালের ব্রাজিলের ছায়ায় হাঁটছে ২০২৬-এর ফ্রান্স

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু আক্রমণভাগ আছে, যাদের নাম শুনলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও, রিভালদো ও রোনালদিনিয়ো ছিলেন সেই ভয়ংকর ত্রয়ী। প্রায় আড়াই দশক পর ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও ফুটবল বিশ্ব একই ধরনের এক আক্রমণ ঝড় দেখছে। এবার সেই ঝড়ের নাম কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যে ফুটবল খেলছে, তাতে অনেক বিশ্লেষকই ২০০২ সালের ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনা টানতে শুরু করেছেন। কারণ, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙার ক্ষেত্রে এই তিন ফুটবলারের বোঝাপড়া, গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার ক্ষমতা একসঙ্গে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।

২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিল প্রায় অপ্রতিরোধ্য। লুইজ ফেলিপে স্কলারির দল সাতটি ম্যাচই জিতে বিশ্বকাপ জেতে। পুরো টুর্নামেন্টে ১৮ গোল করে সেলেসাওরা। এর মধ্যে একাই রোনালদো করেন ৮ গোল, রিভালদো ৫টি এবং রোনালদিনিয়ো করেন ২ গোল। অর্থাৎ ব্রাজিলের ১৮ গোলের মধ্যে ১৫টিই আসে এই তিন মহাতারকার পা থেকে। ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল, যেখানে দুই গোলই করেছিলেন রোনালদো।

অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের গোল উৎসও মূলত তিন তারকাকে ঘিরেই। এমবাপে, দেম্বেলে ও ওলিসে মিলেই করেছেন ১১ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট। ব্র্যাডলি বারকোলাকে যোগ করলে ফ্রান্সের ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই এসেছে এই চার আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। তবে মূল ছন্দ গড়ে দিচ্ছেন এমবাপে, দেম্বেলে ও ওলিসে। বিশেষ করে ওলিসের সৃজনশীলতা এবং এমবাপে-দেম্বেলের গতির সমন্বয় প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে দিচ্ছে।

২০০২ সালে রোনালদোর ফিনিশিং, রিভালদোর দূরপাল্লার শট এবং রোনালদিনিয়োর জাদুকরী ড্রিবলিং ছিল ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ২০২৬ সালের ফ্রান্সেও একই ধরনের বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। এমবাপের বিস্ফোরক গতি, দেম্বেলের অপ্রত্যাশিত ড্রিবলিং এবং ওলিসের নিখুঁত পাসিং ও সুযোগ তৈরির ক্ষমতা ফ্রান্সকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্রয়ীর বোঝাপড়া প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে আরও পরিণত হচ্ছে।

তবে ইতিহাস বলছে, ভয়ংকর আক্রমণভাগ থাকলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয় না। ১৯৭০ সালের ব্রাজিল, ২০০২ সালের ব্রাজিল কিংবা ২০১০ সালের স্পেনের মতো দলগুলো আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণ ও মাঝমাঠেও ছিল ভারসাম্যপূর্ণ। সেই পরীক্ষাতেই এখন নামতে হবে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সকে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে ফরাসিদের জন্য। কিন্তু বর্তমান ফর্মে এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রয়ী যেভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন, তাতে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ২৪ বছর পর কি আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে জন্ম নিতে যাচ্ছে আরেকটি কিংবদন্তি আক্রমণভাগ?

উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে আপাতত এটুকু বলা যায়, ২০০২ সালের ব্রাজিলের ‘থ্রি আর’-এর স্মৃতি ফিরিয়ে এনে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের নাম ইতিহাসের পাতায় লেখার পথে দৃঢ়ভাবেই এগিয়ে চলছে ফ্রান্সের নতুন ‘থ্রি এম’।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর