আ’লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচী আজ; ‘নিরাপত্তার চাদরে আবৃত নারায়ণগঞ্জ’
সৈয়দ মুহাম্মদ রিফাত:
গণঅভ্যুাত্থানে দেশ ছেড়ে পালিযে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। ১৩ নভেম্বরের এই দিনটিকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচীর ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। ঘোষিত কর্মসূচিকে সফলতার মুখ দেখাতে সপ্তাহজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নানাভাবে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনগুলোকে। রাজধানী ঢাকায় লকডাউন কর্মসূচী ঘোষণা করা হলেও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো এবং জেলাজুড়ে গতকাল রাত থেকেই টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়। জেলাজুড়ে ২৬টি নিরাপত্তা ও তল্লাশি চেকপোস্ট স্থাপন
জেলাবাসী নির্বিঘ্নে সব কাজকর্ম করবে: এএসপি অপরাধ
না’গঞ্জে নাশকতা বা কিছু করার কথা ভুলে যান: পুলিশ সুপার
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে দেড় দিনে নাশকতার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির অভিযোগে সারা নারায়ণগঞ্জে এরইমধ্যে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যদিও গত ১০ নভেম্বর থেকে পরিচালিত হচ্ছে বিশেষ অভিযান ও ভাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোড়ালো এসকল অভিযানে গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২৬টি স্থানে নিরাপত্তা ও তল্লাশি চৌকির কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সারা নারায়ণগঞ্জে অন্তত ২৬টি চেকপোস্ট স্থাপনের কথা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি- অপরাধ) তারেক আল মেহেদী খবর প্রতিদিনকে বলেন, মোবাইল টিম ও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। ঢাকামুখী সড়ক ও মহাসড়কগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বিশেষভাবে। তাছাড়া পোষাকি পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জবাসীর ভয়ের কোন কারণ নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনারা নির্বিঘ্নে যে যার কাজকর্ম করতে পারেন। ভয়ের কোন কারণ নেই। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ-প্রশাসন আপনার নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক সক্রিয় আছে।
১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচীকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ বাহিনীসহ জেলার সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সমন্বয় করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যাতে করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা, কোন প্রকার মিছিল সহ জ্বালাও পুরাও এর মতন ঘটনা ঘটাতে না পারে। নারায়ণগঞ্জ জেলার সবগুলো থানাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে লকডাউনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার জন্য। জেলার প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর মডেল থানা পুলিশ গত দু-দিনে আওয়ামী লীগের প্রায় ৯ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন থানায় আটক হয়েছে আরও অনেকে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ দিয়ে চেষ্টা করছি যাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নারায়ণগঞ্জ যেহেতু বাণিজ্যিক শহর তাই এখানে আমাদের দায়িত্বটাও বেশি। লকডাউনকে কেন্দ্র করে জেলার আইন-শৃঙ্খলা সকল বাহিনী পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী সবাই কাজ করছে। কেউ নাশকতা বা অন্য কিছু করতে চাইলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সারা দেশজুড়ে ১৪০০ প্রাণহানীর ঘটনায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ের জন্য আগামী ১৩ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করে। গত ২৩ অক্টোবর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ঘোষিক এই রায়ের দিনটিকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...