বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে সেমিতে ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন জুড বেলিংহ্যাম। নরওয়ের রূপকথার যাত্রা থামিয়ে জোড়া গোলে দলকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়ে শেষ চারে তুললেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। আর তাতেই শেষ হলো আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত বিশ্বকাপ অভিযান। ব্রাজিলকে বিদায় দিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ে শেষ পর্যন্ত আর ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে পারল না। ফিফার অফিসিয়াল ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, অতিরিক্ত সময়ে বেলিংহ্যামের দ্বিতীয় গোলেই নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের জয় ও সেমিফাইনালের টিকিট।
শনিবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩ টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রথম আঘাত হানে নরওয়ে। ৩৬তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিচু শট পোস্টে লেগে জালে জড়ালে গ্যালারিতে শুরু হয় ভাইকিংদের উল্লাস। টুর্নামেন্টজুড়ে আলোচিত নরওয়ে তখন আরও একটি অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
কিন্তু বড় দলগুলোর মতোই চাপ সামলে ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে সমতা ফেরান বেলিংহ্যাম। সেই গোলে বদলে যায় ম্যাচের গতি।
দ্বিতীয়ার্ধে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ৫৬তম মিনিটে কর্নার থেকে ফিরতি বলে টরবিয়র্ন হেগেম গোল করে নরওয়েকে আবারও এগিয়ে দিয়েছেন বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোল হওয়ার আগে আর্লিং হালান্ড বক্সের ভেতরে ইলিয়ট অ্যান্ডারসনকে অপ্রয়োজনীয় ধাক্কা দেন। ফলে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। সিদ্ধান্তটি ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ পেলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর গোল হয়নি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই আসে সিদ্ধান্ত। মরগান রজার্সের শট নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ডের হাতে জমে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বল হাত ফসকে বেরিয়ে এলে মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন বেলিংহ্যাম। নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয়সূচক গোলটি করে ইংল্যান্ডকে পৌঁছে দেন সেমিফাইনালে।
শেষদিকে মরিয়া আক্রমণ চালিয়েও আর সমতায় ফিরতে পারেনি নরওয়ে।
ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানও বলছে, জয়টি ইংল্যান্ডের প্রাপ্য ছিল। ইংলিশরা ১৪টি শট নেয়, যার ৮টি ছিল লক্ষ্যে। নরওয়ে নেয় ১৩টি শট, লক্ষ্যে রাখতে পারে ৫টি। বলের দখলে অবশ্য সামান্য এগিয়ে ছিল নরওয়ে, ৫২ শতাংশের বিপরীতে ইংল্যান্ডের ছিল ৪৮ শতাংশ।
এই ম্যাচে গোল করতে না পারায় থেমে গেল আর্লিং হালান্ডের দীর্ঘ গোলধারাও। ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে গোল করা এই স্ট্রাইকার কোয়ার্টার ফাইনালে ছিলেন প্রায় নিষ্প্রভ। প্রথমার্ধে একটি হেড দারুণভাবে ফিরিয়ে দেন জর্ডান পিকফোর্ড। পরে তার ফাউলের কারণেই বাতিল হয় নরওয়ের সম্ভাব্য দ্বিতীয় গোল। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ।
অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করলেন বেলিংহ্যাম। শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিপক্ষেও দুইবার জাল কাঁপিয়েছিলেন তিনি। এই দুই গোলে টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে। গোলদাতাদের তালিকায় তিনি এখন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সঙ্গে যৌথভাবে রয়েছেন। তালিকার শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আলোড়ন তোলা নরওয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত থামল কোয়ার্টার ফাইনালেই। তবে প্রথমবারের মতো শেষ আটে উঠে তারা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছে।
আর ইংল্যান্ড? শিরোপার স্বপ্ন এখন আরও এক ধাপ কাছে। সেমিফাইনালে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে সেই মহারণের দিকে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...