নারায়ণগঞ্জে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা, তদন্তে প্রশাসন
এইচএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের মর্গ্যাণ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে।
বৃহস্পতিবার (২জুলাই) ছিলো বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা। ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত শর্ট সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২০২৬ সালের পূর্ণ সিলেবাসের প্রশ্নপত্র। এতে একাধিক পরীক্ষার্থী চরম মানসিক চাপে পড়েন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কেন্দ্রের অবহেলার কারণে তাদের ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভুক্তভোগী এক পরীক্ষার্থী জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে শর্ট সিলেবাসে প্রস্তুতি নিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে যান। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর পর তিনি দেখেন, তাকে পূর্ণ সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকের নজরে আনলেও কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ওই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিতে বলা হয়।
পরীক্ষা শেষে তিনি জানতে পারেন, দেশের অন্যান্য কেন্দ্রে ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা শর্ট সিলেবাসের প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিয়েছেন। এরপর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কলেজ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, একটি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রে দুই ধরনের প্রশ্নপত্র থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন ভুল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুরুতেই সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের এমন অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়তে হতো না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মর্গ্যাণ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ নুসরাত রেবেকা বলেন, “আল্লাহর রহমতে সব ঠিক হয়ে গেছে। এখন আর এই বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। যারা দ্বায়িত্বে ছিলো তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেই মুঠোফোন কেটে দেন”
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি এবং কেন্দ্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেভাবেই ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি যে দুইজন কক্ষ পরিদর্শক ছিলেন, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। আরও কারও অবহেলা, বিশেষ করে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...