শোকাবহ আশুরা আজ, নারায়ণগঞ্জে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি
আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। ১৪৪৮ হিজরি সনের ১০ মহররম উপলক্ষে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে। ইসলামী ইতিহাসে আশুরা যেমন হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের মুক্তির স্মৃতিবিজড়িত, তেমনি কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শাহাদাতের বেদনাবিধুর স্মৃতিও বহন করে।
আশুরা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। অনেক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নফল রোজা পালন করছেন।
এদিকে কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে নারায়ণগঞ্জে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকা থেকে ১১টি এবং মেট্রোহল মোড় থেকে একটি তাজিয়া মিছিল বের হবে। মিছিলগুলো নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরে আশুরার আবহ তৈরি করা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী নন; বরং সুন্নি মুসলমান হিসেবে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতেই দীর্ঘ ১৯১ বছর ধরে এই আয়োজন অব্যাহত রেখেছেন।
তাজিয়া মিছিলে ব্যবহৃত মিনার তৈরিতে ব্যস্ত এক কারিগর বলেন, “আমি ইমাম হুসাইনের মহব্বতে এই কাজটা করে যাচ্ছি। ছোটবেলা থেকেই আমার দাদা ও বাবাকে এই কাজ করতে দেখেছি। এখন আমিও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছি। আমরা তাজিয়া বানিয়ে মানুষকে এই বার্তাই দিতে চাই যে, ইমাম হুসাইন (রা.) কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।”
ইসলামী পরিভাষায় ‘আশুরা’ শব্দের অর্থ দশম। মহররম মাসের ১০ তারিখে পালিত হয় বলেই দিনটির নাম আশুরা। হাদিসে বর্ণিত আছে, এই দিনে হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি লাভ করেন। এ উপলক্ষে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজা পালন করেছেন এবং উম্মতকে রোজা পালনে উৎসাহিত করেছেন। ইহুদিদের অনুসৃত রীতির সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে আশুরার আগের বা পরের দিনসহ অতিরিক্ত একটি রোজা রাখারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
তবে মুসলিম উম্মাহর কাছে আশুরার সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি হলো ৬১ হিজরির ১০ মহররমে কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনা। সেদিন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শাহাদাতবরণ করেন ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীরা। সেই আত্মত্যাগ যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সত্য প্রতিষ্ঠা এবং ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করে আসছে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...