না’গঞ্জে তাতীদল নেতা উজ্জলের শেল্টারে বেপরোয়া যুবলীগের হান্নান; চাঁদা পৌছায় আজমেরীর পকেটে!
৫ আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে হয়েছে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানপুত্র আজমেরী ওসমান। সাথে তার ক্যাডার ও ডানহাত খ্যাত হত্যা মামলার আসামী হান্নান পালিয়ে গেলেও সম্প্রতি আবারো নারায়ণগঞ্জে ফিরে এসেছে এই যুবলীগ নেতা। সূত্রের খবরানুযায়ী, হান্নানের অবস্থান এখন ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায়। আজমেরীর ক্যাডার নাছিরের অনুপস্থিতে সরকার পরিবর্তনের দেড় বছরে বৃহত্তর ইসদাইর-বুড়ির দোকান এলাকার ঝুট সন্ত্রাস, কনস্ট্রাকসন ব্যবসাসহ প্রায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা তাতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জল। যার প্রায় বৃহত্তর অংশ দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে যুবলীগ নেতা হান্নানকে। যে কি না আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল। সেই হান্নানকে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা এমনকি এক টেবিলে বসে খাবার খাওয়াতে দ্বিধা নেই তাতী দলের উজ্জলের। তার ভাষ্য, একটা রেস্টুরেন্টে অনেকেই খেতে আসতে পারে! অথচ, যুবলীগ নেতা হান্নানের সাথে উজ্জলের হাসিমুখে ভোজনরত একটি ছবি ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। যা নিয়ে সর্বত্রই চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ আছে, আজমেরী ওসমান ও সন্ত্রাসী নাছিরের দুই তৃতীয়াংশ অনুসারী এখন বিএনপি নেতা উজ্জলের ছায়াতলে থেকে যতো অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে বেড়াচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুড়ির দোকান এলাকার একাধিক স্থানীয় ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, অত্র বুড়ির দোকান-ইসদাইর এলাকার যতো ঝুট সেক্টর পূর্বে সন্ত্রাসী নাছিরের নিয়ন্ত্রণে ছিল তা এখন বিএনপি নেতা উজ্জলের দখলে চলে গেছে। নাছিরের অনুপস্থিতে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড যুবলীগ নেতা হান্নান সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েছে। সাথে আছে উজ্জলের ভাই হাসান ইমাম সম্রাট। এই সেক্টর থেকে লাভের একটা অংশ হান্নানের মাধ্যমে এখনো সন্ত্রাসী নাছির পর্যন্ত পৌছায়! এছাড়াও ইমাম হাসান সম্রাট, শরিফ মাহমুদের নিয়ন্ত্রণে পুরো এলাকায় মাদকের রমরমা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ হয়। এদের দোর্দন্ড প্রতাপে ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে পারে না। পান থেকে চুন খসলেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বিএনপি নেতা উজ্জলের ব্যক্তিগত অফিসে। এমনকি বেধড়ক অত্যাচার ঘটনা এখানে এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে!
অনুসন্ধান বলছে, ওসমান পরিবার তথা আজমেরী ওসমানের যতো অনৈতিক কার্যক্রমের মাস্টারমাইন্ড নাছিরের চেলাচামুন্ডদের ভেতর অন্যতম প্রধান যুবলীগ নেতা হান্নান শেখ হাসিনা পলায়নের মাত্র দু’মাসের মাথায় প্রত্যাবর্তন করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা তাতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জলের সরাসরি শেল্টারে নাছিরের যতো অনৈতিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে নেয় সে। কার্যত, সন্ত্রাসী নাছিরের যতো অপকর্ম এবং ব্যবসা তথাপি অর্থনৈতিক সকল সেক্টর এখন হান্নানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি নেতা উজ্জল। এই গ্রুপে আরও সামিল রয়েছে- উজ্জলের আপন ছোট ভাই ফতুল্লা ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমাম সম্রাট, ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সভাপতি শরিফ মাহমুদ, ফতুল্লা থানা জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব রিপন, ব্যবসায়ী শফিক, বিএনপি নেতা আবদুল জলিল, মহিউদ্দিন, আক্তার, শফিক, সেলিম, স্বপন, মামুন, আমির এবং যুবদল নেতা সৌরভ, জাকির, উৎসব, হাফিজুল, কাউসার, জামাল সহ অন্তত আরও একডজন পদবিহীন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন যেনো তাদের নিজস্ব সোর্স এর মাধ্যমে এসকল বিষয়গুলো তাদের মতো করে পর্যালোচনা করে বিএনপি নেতা উজ্জল, যুবদল নেতা হাসান ইমাম সম্রাট ও যুবলীগ নেতা হান্নানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সিদ্দিকের কবলে রীতিমতো জিম্মি হয়ে পরেছে ইসদাইর-বুড়ির দোকান এলাকার সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের সৃ-দৃষ্টি কামনা করেছে তারা।
এমনসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা তাতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জল খবর প্রতিদিনকে বলেন, একটা রেস্টুরেন্টে কতো মানুষ আসে যায়। আসলেই যে আমার লোক তা কিভাবে … আমি রাগ করি নাই.. আপনারা নিউজ করছেন। আজকে ফোন দিয়েছেন ভালো লাগছে।
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কাচ্চি বিরিয়ানী খাওয়া অবস্থায় যুবলীগ নেতা উজ্জল আপনার টেবিলে বসে আছে। এ বিষয়ে কি বলবেন? জবাবে প্রশ্ন এড়িয়ে ভিন্ন্ন কথা বলতে থাকেন এই তাতী দল নেতা।
এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল বিএনপি নেতারা বলছেন, সত্যি বলতে এসকল পদধারী নেতাদের জন্যেই বিএনপির দুর্নাম ছড়ায়। রাজনৈতিক ফায়দা আর অর্থের লোভ সামলানে না পেরে কিভাবে একজন জাতীয়তাবাদী দলের পদধারী নেতা আজমেরী ওসমানের সহযোগীকে শেল্টার দিতে পারে? এমন ধৃষ্টতা দেখানো পরেও যদি নারায়ণগঞ্জ জেলা তাতী দলের নীতি নির্ধারকগণ চুপ হয়ে থাকে তাহলে আর কিছুই বলার থাকে না। আমরা যারা মাঠ পর্যায়ে দলের স্বার্থে পরিশ্রম করে বেড়াই তাদের দাবি, যাদের কারণে দলেরর বদনাম হয় তাদের অনতিবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...