রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের (হোসিয়ারি মালিক সমিতির সভাপতি) বদিউজ্জামান বদু ঈদ শুভেচ্ছা। মাসুদুজ্জামানের উদ্যোগে এক হাজার পরিবারে গরুর মাংস বিতরণ এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পূর্ব গোপালনগরে শেখ পরিবার ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ নিরব রায়হানের উদ্যোগে শহীদ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ। জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পেলেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। নারায়ণগঞ্জে অসহায় মানুষের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের ইফতার। নারায়ণগঞ্জে কনস্টেবল নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষা ২১ এপ্রিল থেকে। নারায়ণগঞ্জে লোকনাথ গীতা শিক্ষালয়ের প্রথম ক্লাস শুরু। লাঙ্গলবন্দ ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ সভা।

আ’লীগের দোসর হলে ২০১০ সালেই বিকেএমইএ’র সভাপতি হতে হতাম – মোহাম্মদ হাতেম

সৈয়দ রিফাত: / ২৫৭ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫

বিকেএমইএ’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম। ব্যবসায়ীদের নেতা হিসেবে মোহাম্মদ হাতেমের দেশে-বিদেশে রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি, গত ১১ নভেম্বর ইন্ডাট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডব্লিউএফ) আয়োজিত এন্টারপ্রিনিউর সামিট ২০২৫ চলাকালে তোলারাম কলেজ ছাত্র দল সভাপতি মনির হোসেন জিয়া কয়েকজন ছাত্রকে সাথে নিয়ে মোহাম্মদ হাতেমের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরন করার ঘটনা এবং মোহাম্মদ হাতেমকে আওয়ামীলীগের দোসর বলে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে বলার ঘটনায় গতকাল প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত হলে সবত্রই আলোচনার ঝড় উঠে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। একজন অরাজনৈতিক ব্যাক্তি, ব্যবসায়ী নেতার সাথে অসৌজন্য মূলক আচরন করায় ব্যবসায়ীমহল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিসহ ব্যবসায়ীমহল উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

দেশের প্রথম সারির ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে দীর্ঘজীবনে ব্যবসায়ীদের মাঝে বনাঢ্য ইতিহাস তৈরী করেছে মোহাম্মদ হাতেম, বিশেষ করে বিকেএমইএ এর সূচনা লগ্ন থেকেই হাতেম সক্রিয়ভাবে জড়িত (প্রতিষ্ঠাতা সদস্য-১)। দীর্ঘদিনের শ্রম মেধা দিয়ে দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে আজকের অবস্থানে আনতে মোহাম্মদ হাতেমের শ্রমের কথা সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করে। অনেক ব্যবসায়ীরা ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি করলেও মোহাম্মদ হাতেম কখনোই কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য দুরে থাক, রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে কোন দিন বক্তব্যও দেন নি।

ব্যবসায়ীদের নেতা হিসেবে সরকারী সেমিনার এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বিগত দিনে অনেক সরকারী অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হাতেমকে যোগ দিতে হয়েছে এবং সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেই দলই থাকুক না কেন। যতদিন ব্যবসায়ীদের নেতা হিসেবে হাতেমের পরিচতি থাকবে ততোদিন ঐ সরকারের সাথে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে তাকে সু-সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে । মোহাম্মদ হাতেম যদি ব্যবসায়ী নেতার পাশাপাশি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হতো তাহলে অনেক আগেই তিনি নানা সুবিধা নিয়ে দেশে বিদেশে অনেক কিছুই করতে পারতো। হতে পারতো হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক, নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না করে ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের র্স্বাথ সংরক্ষনে সারাটা জীবন পার করে দিয়েছে । ছাত্রদের ঐ দিনের ঘটনা নিয়ে মোহাম্মদ হাতেম শুধু হতবাকই হয়নি বরং মর্মাহত হয়েছে। নিজের কাছে নিজেই প্রশ্নবানে র্জজরিত হয়েছে। সারাটা জীবন দেশের স্বার্থে, দেশের ব্যবসায়ীদের চাকা সচল রাখতে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তিনি কাজ করে গেছেন, আর কোন কারণ ছাড়াই একটি সুন্দর অনুষ্ঠানে কয়েকজন ছেলে যে ঘটনা ঘটিয়েছে।

ঐ দিনের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত বছর ৫ই আগষ্ট সরকার পরির্বতনের পর অনেকেই আমার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে চেয়েছিল। সুবিধা বঞ্চিতরা হয়তোবা ঐ সকল ছেলেদের দিয়ে ঐ দিনের ঘটনাটা ঘটিয়েছে। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জীবনে আমি কোনদিন রাজনীতি করিনি কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের তলপি বাহক হয়ে কাজও করিনি, করিনি কোন লেজুরবৃতি। আমি যদি সাবেক সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাত করে চলতাম তাহলে ২০১০ সালেই বিকেএমইএ’র সভাপতি হতে পারতাম। ঐ সময়ে একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকায় আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের জামাত এবং বিএনপি সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত করে সংবাদ প্রকাশ করেছিল। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান মিডিয়াকে বলেছিলেন শেখ হাসিনা যতদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবে ততদিন মোহাম্মদ হাতেম বিকেএমইএ’র সভাপতি হতে পারবেন না। সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্নে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সাবেক সরকার আমলে লোকজন আমাকে বিএনপি জামাত বানাবার চেষ্টা করেছে। এখন আবার কিছু লোকজন বা বিএনপির ছাত্র দলের কয়েকজন বলছে আমি আওয়ামী লীগের দোসর। একজন মানুষকে নিয়ে মিথ্যাচার করা মোটেও শোভনীয় নয়। ঐ দিনের ঘটনা সর্ম্পকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন কিনা প্রশ্ন করলে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, না, বিএনপির নীতি নির্ধারক মহল আমার সম্পর্কে যথেষ্ঠ অবগত, সার্বিক ব্যাপারটা উনাদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।

যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারা আমার দুই ছেলের চেয়েও ছোট। আমার ধারনা বিগত সময়ে যারা আমার কাছ থেকে অনৈতিকভাবে সুবিধা চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে তারাই এই বাচ্চা ছেলেগুলিকে মিসগাইড করে এ ঘটনাটা ঘটিয়েছে। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার পতনের মাত্র ১৯ দিন পর আমি বিকেএমইএ’র সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করি। যদি ইচ্ছা করতাম তাহলে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে দুই বছর অনায়াসে থাকতে পারতাম। কিন্তু না, আমি তা করিনি ব্যবসায়ীদের প্রানের সংগঠন বিকেএমইএকে শতভাগ গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করি এবং এ বছরের ১০ই মে নির্বাচন দেই। নির্বাচনে আমার পুরো প্যানেল নিরংকুশ বিজয় লাভ করে নির্বাচিত হয়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো গত নির্বাচনে ৭৫ শতাংশ ভোটার ভোট দেন। এমনও হতে পারে পরাজিত শক্তি আমার জনপ্রিয়তায় ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ভীত হয়ে, আমাকে হেয় করার জন্য এই ধরনের নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

মোহাম্মদ হাতেম আরোও বলেন, গতবছর ৫ই আগষ্ট সরকার পতনের কয়েকদিন আগে পোষাক শিল্পের ৪৮ জন তরুন উদ্যোক্তা ছাত্র-জনতার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিল তাদের মধ্যে ৫ নাম্বারে স্বাক্ষর করেছিল আমার ছেলে, আমার প্রতিষ্ঠানের নামও দেয়া ছিল। যদি আওয়ামী সরকারের পতন না হতো তাহলে আমাদের অবস্থা কি হত আপনারাই ভেবে দেখুন? বর্তমান সরকারের বয়স একবছর অতিক্রম করেছে, রাজনৈতিক দল এবং সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে ব্যবসা সংক্রান্ত অনেক সভা সেমিনারে আমি যোগ দিয়েছি এবং যখন যে সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবে দেশের অর্থনীতি ও ব্যাবসায়ীদের স্বার্থে আমাকে ঐ সরকারের সাথে সুসম্পর্ক রেখেই পলিসি নির্ধারণ করতে হবে। যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। এটাই বাস্তবতা, হটাৎ করে এমন একটি অনাকাংখিত ঘটনার পিছনে হয়তো বা কারো বড় ধরনের ইন্দন রয়েছে কিংবা থাকতে পারে বলে মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর