সোনারগাঁয়ে আধিপত্যের লড়াই, রণক্ষেত্র পাচানী: সংঘর্ষে আহত ১২, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাচানী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামিদ গ্রুপ ও রাসেল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। রাতের উত্তেজনা কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সকালে রাসেল গ্রুপের সমর্থকরা হামিদ গ্রুপের লোকজনের ওপর হামলা চালালে কয়েকজন আহত হন। পরে হামিদ গ্রুপের সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র সংঘর্ষ। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। তাই যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...