বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
অসুস্থ বিএনপি নেতা অলি আহম্মেদ; দোয়া চাইলেন কনিষ্ঠ সন্তান সোহেল খন্দকার নারায়ণগঞ্জে যুবদল কর্মীর ঘুষিতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মৃত্যু কাঠেরপুল-রামারবাগে রিয়াদ চৌধুরীর নির্দেশে খেজুর গাছের প্রচারণায় বিএনপি নেতা অলি আহম্মেদ দৈনিক খবর প্রতিদিন’র সকল প্ল্যাটফর্ম থেকে ফটো সাংবাদিক হাবিব খন্দকারকে অব্যাহতি কাঠেরপুলে জনতার স্রোতে মুগ্ধ মুফতি কাসেমী; বললেন ‘আপনারাই আমার আত্মবিশ্বাস’ মাঠ পরিদর্শনকালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এডভোকেট টিপু বলেন, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে। ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। খেজুর গাছ মার্কায় ভোট চেয়ে কুতুবপুরে গণসংযোগ ও বিশাল শোডাউন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর অন্তর্গত ৭ নং ওয়ার্ডের পরিচিতি সভা ও উপহার বিতরণ বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎক সমিতির মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জে ‘মাদকের হটস্পট এখন ফতুল্লা’!

সৈয়দ রিফাত: / ৩৯২ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫

৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর সারাদেশের মতো চরম অবনতিতে পৌছায় নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। যে সুযোগ সবচেয়ে বেশি কাজে লাগিয়েছে মাদক কারবারীরা। ধীরে ধীরে পুলিশ-প্রশাসন হার্ডলাইনে পৌছালেও দাবিয়ে রাখা যায়নি শীর্ষ মাদক সম্রাটদের। বিভিন্ন জায়গায় চুনোপুটিরা গ্রেপ্তার হলেও এখনো অধরাই রয়ে গেছে তারা। অনুসন্ধ্যান বলছে, জেলার ৭টি থানার ভেতর মাদকের ভয়াল বিস্তার এখন ফতুল্লায়। এই থানার অন্তত শতাধিক জায়গায় খুচরা, পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। যদিও পুলিশের ভাষ্য, তাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদকের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স!

এদিকে সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় প্রয়াত সাবেক এমপি নাসিম ওসমানপুত্র আজমেরী ওসমানের ছত্রছায়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অঘোষিত মাদক সন্ত্রাসের মূলহোতা ছিল রিপন ওরফে ইট্টু রিপন ও সেলিম ওরফে কসাই সেলিম। অথচ, আওয়ামী সরকারের পতনের পরেও ৫ আগস্টের পর ১ ঘন্টার জন্যেও বন্ধ হয়নি রিপন- সেলিম বাহিনীর মাদক কারবার।

অভিযোগ রয়েছে, রিপন ও সেলিম এবং তাদের বাহিনীর সদস্যদের ধরতে এসে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও থানা পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের পর চলতি মাস পর্যন্ত এমন ঘটনায় অন্তত দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির ওপর হামলায় ১টি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপর হামলার ঘটনায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। অথচ, এখনো পর্যন্ত সেলিম-রিপনের মাদক সা¤্রাজ্য অক্ষত আর তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে!

অনুসন্ধান বলছে, রিপন-সেলিম বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার দু’টি থানা অর্থাৎ সদর মডেল থানাধীন কলেজ রোড, গলাচিপা রেললাইন, গলাচিপা সুগন্ধা বেকারীর মাঠ, চাষাঢ়া বালুর মাঠ, ফতুল্লা মডেল থানাধীন মাসদাইর বাজার, মাসদাইর বেগম রোকেয়া স্কুল গলি, মাসদাইর বেগম রোকেয়া স্কুলের সামনে এপার্টমেন্ট বিল্ডিং, গ্যারেজ গলি,  শেরে-বাংলা রোড, গুদারাঘাটসহ কম করে ২০টি স্পটে ইয়াবা, গাজা, ফেনসিডিল ও হেরোইন প্রকাশ্যে সরবরাহ করছে। নিজেদের লালিত সিন্ডিকেট ও কিশোরগ্যাং সদস্যদের দ্বারা দেদারসে মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনা করছে ইট্টু রিপন ও কসাই সেলিম।

অপরদিকে, ফতুল্লার মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকার অপর আরেক শীর্ষ মাদক কারবারি মাসুদ ওরফে হোটেল মাসুদ (৪০)। সর্বশেষ, বছর ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ফারিয়া গার্মেন্টেসের সামনের রাস্তায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ৯০০ পুরিয়া গাঁজাসহ হোটেল মাসুদকে গ্রেপ্তার করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মোসলেম মিয়ার পুত্র হোটেল মাসুদ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। তালিকাভুক্ত এই মাদক কারবারি মাসুদ ও রমুর ওরফে ফরমা রমুর বাসস্ট্যান্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে দফায় দফায় হামলা চালায় রিপন – সেলিম বাহিনী। সেসময় পথচারী ও নিরীহ মানুষের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি হয় বলেও জানা গেছে।

ফতুল্লা থানাধীন মাদকের আরেক হটস্পট ইসদাইর অক্টোঅফিস এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে মাদক কারবারী সম্রাট। একাধিক স্যালসম্যানের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বিক্রি করে আসছে হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজা। যুবসমাজকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ইসদারের সচেতন নাগরিকরা।

এদিকে, ফতুল্লার শিবু মার্কেট-ফতুল্লা সড়কের আজমেরীর মোড় থেকে রেললাইন পর্যন্ত অন্তত এক ডজন স্যালসম্যান দিয়ে ২৪ ঘন্টা মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেলের একনিষ্ঠ কর্মী সাদিক ওরফে রিহ্যাব সাদিক। সূত্রের খবরানুযায়ী, সাদিকের নিয়ন্ত্রণে ২৪ ঘন্টা প্রকাশ্যে বেচাবিক্রি হয় ইয়াবা। নিজের লালিত স্যালসমেন দিয়ে তার নিজের বাড়ি, আজমেরীর মোড় ও রেললাইন এলাকায় ইয়াবার যোগান দিয়ে থাকে সে। ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মীর সোহেলের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের উপর দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার গুরুত্বর অভিযোগও রয়েছে রিহ্যাব সাদিকের বিরুদ্ধে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণ করায় বেশিরভাগ সময়েই সাদিককে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয় পুলিশ-প্রশাসন। কিছুদিন পূর্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার বাসায় অভিযান চালালেও সাদিক রয়ে যায় ধরাছোয়ার বাইরে।

অপরদিকে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের কায়েমপুর বটতলা থেকে শুরু করে ব্যুারো টাঙ্গাইল মোড় পর্যন্ত মাদকের রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে জসিম ওরফে হান্ড্রেট জসিম ও তার সিন্ডিকেট। কায়েমপুর বটতলার ২শ’ গজ অদূরে ২৪ ঘন্টা মাদকের স্পট পরিচালনা করছে সে। তার নেতৃত্বে ওই গলিতে খুচরা মাদক বিক্রি করে আসছে সজিব, সুজনসহ অন্তত দশের অধিক মাদক কারবারী। অনতিবিলম্বে চিহ্নিত এই মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে কায়েমপুরবাসী।

এছাড়াও ফতুল্লা পিলকুনি এলাকার আব্দুল সালামের পুত্র শীর্ষ মাদক কারবারী নয়ন ওরফে ডাকাত নয়নের হেরোইন কারবার, পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার ইয়াবা সম্রাট সালামের পুত্র রনি ওরফে পেঁচা রনি ও নন্দলালপুর উত্তর মহল্লার সাগর ওরফে অট্টালিকা সাগর নির্বিঘ্নে পরিচালনা করছে ইয়াবা সা¤্রাজ্য। এমনকি ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর থেকে আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য ও মাদক কারবারী শাহাজুল ওরফে ডাকাত শাহাজুল ও কিশোরগ্যাং লিডার রনি ওরফে ডিব্বা রনির নেতৃত্বে পরিচালনা হচ্ছে হেরোইনের বিশাল কারবার। এছাড়াও ফতুল্লার তুষারধারা, গিরিধারা, শহীদ নগর, আদর্শ নগর এলাককার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত মাদক কারবারী গাজী মুজাহিদ মোল্লার নেতৃত্বে দেদারসে বেচাবিক্রি হচ্ছে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা। গেলো বছরেও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য সহ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। মুজাহিদ কুতুবপুর ইউনিয়নের আদর্শনগর মোহাম্মদবাগ এলাকার গাজী মোল্লার পুত্র। এদের প্রত্যেকের নামে ফতুল্লা মডেল থানা রয়েছে একাধিক মাদক মামলা।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিগত সময়ের মতো আমাদের ধারাবাহিক অভিযান চলমান রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতেই আছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক- সার্কেল) হাকিমুজ্জামান বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন জায়গা থেকে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তবে, দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে কিছুদিন পরই তারা জামিনে বের হয়ে ফের মাদক কারবারে জড়িত হয়ে পরছে। এক একজন মাদক কারবারির নামে চার, পাঁচ এমনকি দশের অধিক মামলা থাকার পরেও তারা মাদক কার্য সম্পাদন করে চলে। মূলত, এই কারণেই হয়তো মাদকের বিস্তার রোধ কিংবা মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। 

তিনি আরও বলেন, তবে, পুলিশ থেমে নেই। মাদক ছাড়াও আরও অন্যান্য কাজ করতে হয় আমাদের। সবমিলিয়ে মাদকের জিরো টলারেন্স নীতিতেই রয়েছি আমরা। সামনের দিনগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর