মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
স্পেনের পায়ের জাদুতে থামল মেসির স্বপ্ন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি ও সমঅধিকার চান এমপি আল আমিন নাসিক প্রশাসকের সঙ্গে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাষ্ট না’গঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ সাখাওয়াত, মামুন মাহমুদ ও রাজীবকে চেম্বারের সংবর্ধনা রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর : না’গঞ্জে আহত সাংবাদিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ না’গঞ্জকে সেফ সিটি গড়তে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ সাংবাদিক নেতা ও আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুমের জন্মদিন আজ না’গঞ্জ শহরের সড়ক ডিভাইডার পরিষ্কার করে বৃক্ষরোপণ করবে নাসিক নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী সোহাগকে ফুলেল সংবর্ধনা তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ওসমানের অর্থলোপাটের মহাপ্রকল্প

তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ওসমানের অর্থলোপাটের মহাপ্রকল্প

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ৩৯ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ওসমানের অর্থলোপাটের মহাপ্রকল্প

এই বিষয়ে কথা বলতে হলে আপনার অফিসে আসতে হবে: প্রকৌশলী জাকির

তারাবো পৌরসভা অধীনে নোয়াপাড়া বিসিক জামদানি বালুর মাঠের প্রয়োজনীয় বসার ব্যবস্থাসহ উন্নায়নমূলক কাজের জন্য মাটি ভরাট ও নির্মাণ কাজের জন্য একটি টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন তারাবো পৌরসভা। তবে এই টেন্ডারের নেপথ্যে ভিন্ন একটি গল্প রয়েছে। মূলত, নোয়াপাড়া  বিসিক জামদানি বালুর মাঠে কোরবানী উপলক্ষ্যে একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বসেছে। কিন্তু এই হাটটি পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অনিয়মের গল্প। আর এই হাট পরিচালনাকারী অসাধু চক্রই টেন্ডারের নামে বিশাল একটি অর্থলোপাটের মহাপ্রকল্প হাতে নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে জামদানি বালুর মাঠে কোরবানী উপলক্ষ্যে একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানো কেন্দ্র করে মাঠটিতে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলেন। কিন্তু হাট বাণিজ্য শেষে হাট পরিচালনাকারী অসাধু চক্র হাট বাণিজ্য করতে ফেলা বালুকেও লুটপাটের মাধ্যম তৈরী করতে তারাবো পৌরসভার কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করান। পাশাপাশি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির পূর্বে তারাবো পৌরসভার ইঞ্জিয়ার জাকিরকে দিয়ে প্রকল্পটি এসেসমেন্ট করে আনুমানিক খরচ নির্ধারণ করিয়েছেন ২৫লক্ষ ১৫হাজার টাকা। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হওয়ায় অসাধু চক্রটি টেন্ডারটি নিজেরাই কৌশলে ভাগিয়ে নিতে টেন্ডার সাবমিট করেছেন। তবে এর মূল্য উদ্দেশ্যই হচ্ছে হাটে ফেলা বালুকে টেন্ডার কাজ হিসেবে বুঝিয়ে পুরো টেন্ডারের টাকা লোপাট করার পায়তারা করছে। কিন্তু এখনো টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার হয়নি যার কারণে প্রকল্পটির কাজে অনিয়মের যে পরিকল্পনা করছেন অসাধু চক্র এই সংবাদটি প্রকাশিত হলে নিজেদের স্বচ্ছতা প্রমাণের স্বার্থে বেস্তে যেতে পারে অর্থলোপাটের নীলনকশা।

সূত্র বলছে, নোয়াপাড়া  বিসিক জামদানি বালুর মাঠ পানি উন্নায়ন বোর্ডের সম্পত্তি ছিল। উক্ত সম্পত্তি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১১সাল পর্যন্ত লিজকৃত হিসেবে জমিটিতে মৎস খামার পরিচালনা করতেন স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন। পানি উন্নায়ন বোর্ড থেকে জমিটির লিজ নবায়ন করতে গিয়ে ব্যর্থ হন আলাউদ্দিন পরবর্তীতে মামলার আশ্রয় নেন। কিন্তু জমিটি স্টোডিয়াম করার জন্য এমপি গোলাম দস্তাগীর গাজী আলাউদ্দিনকে মামলাটি তুলে নিতে বলেন। পরর্তীতে পুরো জমিতে স্টেডিয়াম না করে একটি ডাইং ও নিটিং মিলের হাতে জমিটি তুলে দেন তৎকালীন এমপি। পরবর্তীতে বালু ভরাট করে জমিটির একাংশে খেলার মাঠ করা হয় এবং বাকি পুরো অংশ লিজ নিয়ে নেন সেই ডাইং ও নিটিং মালিক। পরবর্তীতে এই জমিটি নিয়ে শুরু হয় মামলা মোকাদ্দামা যা এখনো চলমান। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই নোয়াপাড়া  বিসিক জামদানি বালুর মাঠ পানি উন্নায়ন বোর্ডের সম্পত্তিতে বৈধ লিজকৃত হয়ে কোরবানী উপলক্ষ্যে একটি অস্থায়ী পশুর হাটের সূচনা করেছিলেন আলাউদ্দিন। সেসময়ে অস্থায়ী হাটের সকল আয়ের উৎস স্থানীয় মসজিদে চলে যেত। কিন্তু বর্তমানে নোয়াপাড়া বিসিক জামদানি বালুর মাঠের অস্থায়ী হাট বসিয়েছিলেন এবং ইজারাদার ছিলেন তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তাসিক হক ওসমান। তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তাসিক হক ওসমান এবং তার বড় ভাই সোলেয়মান ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তাকে নিয়ে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী মহলকে নিয়ে হাট পরিচালনা করেন। হাটটি ইজারা প্রক্রিয়া নিয়েছিল বিতর্ক। হাটটিতে গরু বিক্রয় বাবদ ৩৮লাখ টাকা হাসলী সংগ্রহ করা হয়। এদিকে ইজারাদার তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তাসিক হক ওসমান একাই লুফে নেন হাসলী কালেকশনের মূল টাকার ২০%। পাশাপাশি তারাবো পৌরসভা প্রশাসক এবং রূপগঞ্জ উপজেলা ইউনওকে ৪লাখ টাকা এবং রূপগঞ্জ থানা ওসিকে ৩লাখ দেবার খাত দেখিয়ে টাকা নিয়ে যান এবং ইজারা প্রক্রিয়ারও ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ খরচের টাকা খাত দেখিয়ে নিয়ে যান ওসমান। এভাবেই নোয়াপাড়া বিসিক জামদানি বালুর মাঠের কোরবানী উপলক্ষ্যে একটি অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালনা করতে গিয়ে লুটপাটের মহোৎসব উৎপত্তি করে বসেন তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তাসিক হক ওসমান। এখনোই শেষ নেয় হাট পরিচালনার সময় তীব্র বৃষ্টির কারণে মাঠের অবস্থা খারাপ থাকায় ড্রেজার যোগে প্রায় ২০-২৫হাজার ফুট বালু ফেলেন সেই টাকাও হাটের ফান্ড থেকে কেটে নেন তাসিক হক ওসমান। কিন্তু হাটে ফেলা বালুকে পুঁজি করে তারাবো পৌরসভার বিশাল একটি অর্থ লোপাটের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছেন তাসিক হক ওসমান সিন্ডিগেট। অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে,গত ২৪মে তারাবো পৌর সভা কয়েকটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। যেখানে ক্রমিক নং-১৪ সর্বশেষ তারাবো পৌরসভা অধীনে নোয়াপাড়া বিসিক জামদানি বালুর মাঠের প্রয়োজনীয় বসার ব্যবস্থাসহ উন্নায়নমূলক কাজের জন্য মাটি ভরাট ও নির্মাণ কাজের জন্য একটি টেন্ডার প্রকাশ করেছেন। উক্ত টেন্ডারটি তারাবো পৌরসভার কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রকাশ করান ওসমান সিন্ডিগেট। এমনকি টেন্ডার প্রকাশের পূর্বে উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তারাবো পৌরসভার ইঞ্জিয়ার জাকিরকে দিয়ে প্রকল্পটি এসেসমেন্ট করে আনুমানিক খরচ নির্ধারণ করিয়েছেন ২৫লক্ষ ১৫হাজার টাকা এবং উক্ত টেন্ডারে এই ওসমান গংদের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে টেন্ডার সাবমিট করে। তবে এখনো ওয়ার্ক অর্ডার হয়নি। অনুসন্ধানের সূত্রে উঠে এসেছে এক ভয়ংঙ্কর লুটপাটের ফিরিস্তি। সূত্র নিশ্চিত করেছে, নোয়াপাড়া বিসিক জামদানি বালুর মাঠের কোরবানী উপলক্ষ্যে একটি অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালনা যে বালু ভরাট করা হয়েছে যার মূল্য আনুমানিক ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা বা এর কম হবে। নোয়াপাড়া বিসিক খেলার মাঠের উন্নায়নের জন্য সম্প্রতি যে টেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে সেই টেন্ডারটির কাজ হচ্ছে হাট পরিচালনার জন্য যে বালু ভরাট করা হয়েছে সেই বালু ভরাটের কাজ। তবে আনুসাঙ্গিক অন্যান্য কাজ থাকলেও মূল কাজ হচ্ছে বালু ভরাট। তারাবো পৌরসভায় এই টেন্ডারের আনুমানিক খরচ দেখা হয়েছে প্রায় ২৫লক্ষ ১৫হাজার টাকার মত। কিন্তু এই টেন্ডারটি সম্পূর্ণই হচ্ছে একটি ভাওতা কারণ টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির আগেই টেন্ডারের কাজ অনেকটা সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন বিএনপির টেন্ডার মেকার ওসমান গংরা। আর এই ভাওতাবাজি করেই তারাবো পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তাসিক হক ওসমান সিন্ডিগেট তারাবো পৌরসভা থেকে প্রায় ২৫লক্ষ টাকার টেন্ডারের কাজ লুটপাটের নীলনকশা তৈরী করছেন। কিন্তু তারাবো পৌরসভার প্রশাসক তদারকি করে টেন্ডারটি স্থগিত করলে টেন্ডারটির স্বচ্ছতা ফিরানো সম্ভব বলে মনের করছেন স্থানীয় সূত্র।এ বিষয়ে তারাবো পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান,আমি এই টেন্ডারের এসেসমেন্ট করিনি, আমাদের সর্ভোয়াররা করছে, আমার কাজ পড়ে। আর এই বিষয়ে কথা বলতে হলে আপনার অফিসে আসতে হবে।এ বিষয়ে তারাবো পৌরসভা প্রশাসক এবং রূপগঞ্জ উপজেলা ইউনও মো: সাইফুল ইসলামের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর