ছিনতাই আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জবাসী, মিলছে না প্রতিকার
নারায়ণগঞ্জ শহরে ছিনতাই যেনো এক নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইকারীদের কবলে পরে সর্বহারা হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে, ভোগান্তির শিকার হতে হবে ভেবে, প্রশাসনের কাছেও সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত থাকছে ভুক্তভোগীরা। এছাড়াও ছিনতাইকারীদের কবলে পরে নিহতের ঘটনাও রয়েছে অনেক।
জানা গেছে, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ নারায়ণগঞ্জ শহরে এসে বসবাস করে। আর ওইসকল মানুষই হয়ে থাকে ছিনতাইকারীদের প্রধান টার্গেট। এছাড়া গভীর রাতে লোকশুন্য বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দেরও পরতে হচ্ছে ছিনতাই এর কবলে। দুই-তিনজন মিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সব লুটে নিচ্ছে ওইসকল ছিনতাইকারীরা। প্রায় সময়ই অস্ত্রের আঘাতে আহত হচ্ছে বহু সাধারণ মানুষ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে ছিনতাইয়ের বেশ কিছু স্পটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চাষাড়া, উকিলপাড়ার সামনে বঙ্গবন্ধু সড়ক, নয়ামাটির হোসিয়ারী পল্লীর পাশে অবস্থিত করিম মার্কেট, মাসদাইরের বোয়ালীখাল, জামতলা ও চাষাড়া-পঞ্চবটি সড়কের ইসদাইর অক্টোঅফিসের সামনে, দেওভোগ পানির ট্যাংকি, জিমখানা রেলওয়ে কলোনী সংলগ্ন জল্লারপাড় পার্ক, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের সামনে, ভুইগড় বাসস্ট্যান্ড, পাগলা বাসস্ট্যান্ড এবং শীতলক্ষ্যা নদী তীরের ওয়াকওয়েগুলোতে সবচেয়ে বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া চাষাড়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট, চাষাড়া থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক এবং ফতুল্লার কাশিপুর এলাকায় প্রায় প্রতদিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বেশ কয়কেজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধ্যরাত থেকে ভোর সকাল পর্যন্ত সড়কের আনাচে-কানাচে সরব থাকে ছিনতাইকারীদের চক্র। সুবিধাজনক স্থানে কাউকে দেখলেই টার্গেট করে সবকিছু কেড়ে নেন তারা। এ সময় কেউ তাদের সঙ্গে থাকা টাকা কিংবা মোবাইল এবং স্বর্ণালংকার দিতে রাজি না হলে ছুরিকাঘাত করা হয়। আর এ কারণে নারায়ণগঞ্জ দেড়শ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এবং ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ছিনতাইকারীদের আঘাতে আহত রোগীর উপস্থিতি দিনদিন বাড়ছে।
তারা আরও বলছে, ছিনতাইয়ের শিকার বেশির ভাগ ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন না। কেননা এতে করে নিজের জিনিস পাওয়ার সম্ভবনা অনেক কম থাকে এবং পুলিশি হয়রানিও হয়ে থাকে বলেই অনেকেই মন্তব্য করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, রাতে পুলিশ এবং র্যাবের টহল বৃদ্ধি না করা হলে ছিনতাইয়ের ঘটনা কোনোভাবেই কমানো সম্ভব না। পাশাপাশি যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...