দাফন নাকি সৎকার, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শুভর মরদেহ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে বিল্লালের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিহতের বাবা হিন্দু রীতিতে মরদেহ সৎকারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে মায়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ছোটবেলায় ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম পরিচয়ে বেড়ে ওঠায় শুভকে ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করতে হবে। দুই পক্ষের দাবির মুখে ছয়দিন ধরে মরদেহটি হিমাগারে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী শুভর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে প্রায় ৯২ ঘণ্টা রাখা হয়েছিল মরদেহ। পরে আদালতের নির্দেশে সেটি ঢামেকের হিমাগারে নেওয়া হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, গত শনিবার ভোররাতে চাষাঢ়ায় গুলি করে ৩০ বছর বয়সী শুভকে হত্যা করা হয়। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুভর জন্মদাতা বাবা হরি চন্দ্র দাস। তিনি পেশায় কামার এবং চাঁদপুরের মতলবের বাসিন্দা। নারায়ণগঞ্জ শহরে তার একটি দোকান রয়েছে। প্রায় দুই দশক আগে শুভর মা পার্বতী দাসের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।
পরিবারের ভাষ্য, ২০০৩ সালে বিচ্ছেদের পর চার সন্তানকে নিয়ে পার্বতী ধর্মান্তরিত হয়ে আয়েশা বেগম নাম নেন। তখন সাত বছর বয়সী শুভর নাম রাখা হয় বিল্লাল। পরে পার্বতী এক মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করেন। হরি চন্দ্র দাসও দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
শুভর ভাই ইব্রাহিমের দাবি, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তারা দুই ভাই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। শুভ মুসলিম রীতি মেনে জীবনযাপন করতেন। তার স্ত্রীও মুসলিম। জালকুড়ি এলাকায় স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তাই তাকে দাফন করতে চান মায়ের পক্ষের স্বজনরা।
তবে শুভর জন্মদাতা বাবা হরি চন্দ্র দাস মরদেহ দাহ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
শুভর জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এনআইডিতে বাবার নাম হরি চন্দ্র দাস। মায়ের নামের জায়গায় রয়েছে হরি চন্দ্র দাসের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম। ধর্মান্তরের পর নাম পরিবর্তনের কোনো হলফনামাও করা হয়নি। বিয়ের কাগজেও তার নাম শুধু ‘শুভ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘হরি চন্দ্র দাস মরদেহ দাহ করার আবেদন করেছেন। অন্যদিকে মায়ের পক্ষ থেকেও হাইকোর্টে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে সমাধান হবে। আপাতত আদালতের নির্দেশে মরদেহ ঢামেকের হিমাগারে রাখা হয়েছে।’
এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। তবে হত্যার তদন্তের পাশাপাশি এখন শুভর শেষকৃত্য নিয়েও আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে দুই পক্ষ।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...