মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
নাসিরকে একহাত নিলেন বিএনপি নেতা টিপু স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বাচ্চুর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী কাজের মানে আপস নয়, ত্রুটি পেলেই জানাতে বললেন এমপি আল আমিন স্পেনের পায়ের জাদুতে থামল মেসির স্বপ্ন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি ও সমঅধিকার চান এমপি আল আমিন নাসিক প্রশাসকের সঙ্গে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব ট্রাষ্ট না’গঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ সাখাওয়াত, মামুন মাহমুদ ও রাজীবকে চেম্বারের সংবর্ধনা রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২ বছর : না’গঞ্জে আহত সাংবাদিকদের খোঁজ রাখেনি কেউ না’গঞ্জকে সেফ সিটি গড়তে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ সাংবাদিক নেতা ও আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুমের জন্মদিন আজ

কিশোর গ্যাংমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে কাজ করছে: ডিসি মোঃ রায়হান কবির

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ৩৫০ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কিশোর গ্যাং, মাদক, চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি ও ইভটিজিংকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব অপরাধের মূল উৎস হিসেবে কিশোর গ্যাং ও মাদককে চিহ্নিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।

সম্প্রতি কিশোর অপরাধ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আজকের শিশু-কিশোরই আগামী দিনের কর্ণধার। তারা যদি মাদকমুক্ত, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও সুষ্ঠু পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, কিশোর বয়স অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ বয়সে তারা অতিকৌতূহলী ও স্বপ্নময় থাকে। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশ, পারিবারিক অবহেলা ও খারাপ সঙ্গের কারণে অনেক সময় তারা অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়।

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, কিশোর অপরাধের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক তত্ত্বাবধানের অভাব, মাদকাসক্তি, শিক্ষার ঘাটতি, খারাপ সঙ্গ এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার সবকিছু মিলিয়েই কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের কারণে মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে অনেক কিশোর অপরাধে জড়ায়। আবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ও অভিভাবকের নজরদারির অভাবও কিশোরদের বিপথে নিয়ে যায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মা-বাবার অসচেতনতা, সন্তানকে সময় না দেওয়া, অল্প বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ এবং সামাজিক অবক্ষয় কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে কিশোর অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে ছিনতাই, ইভটিজিং, এমনকি বাধা দিলে সহিংস ঘটনাও ঘটছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, কিশোর অপরাধের মূল কারণ মাদক। তাই নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কিশোর গ্যাং অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব।

তিনি কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। বলেন, পরিবারই একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা এবং নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা।

এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, পাঠাগারভিত্তিক শিক্ষা ও সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ছিন্নমূল শিশুদের পুনর্বাসন এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত সমাজ গড়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, মা-বাবা যদি সন্তানের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতি নজর রাখেন, তাহলে কোনো সন্তান সহজে অপরাধে জড়াবে না। পরিবারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হলে সমাজেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

শেষে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কিশোর অপরাধ ও গ্যাংসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রশাসনকে জানাতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কিশোর অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর