সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
লোকনাথ গীতা শিক্ষালয়ের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত। দুর্দিনের কাণ্ডারি টিপু, তৃণমূল চায় এই ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন। জ্বালানি সংকটের গুঞ্জন, চাষাঢ়ার ফিলিং স্টেশনে বাড়তি ক্রেতা। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল। বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত নাট্যকর্মী ঐক্য জোট আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল। ত্বকী হত্যা ১৩ বছর পরও বিচার না হওয়া ঘটনাটি অনেকের কাছে বিচারহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ৩৪ চেম্বারের ইফতারে দিপু ভূঁইয়ার অভূতপূর্ব মিলনমেলা।

চেম্বারের ইফতারে দিপু ভূঁইয়ার অভূতপূর্ব মিলনমেলা।

খবর প্রতিদিন রিপোর্ট / ৩৯ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

ব্যবসা, রাজনীতি ও প্রশাসনের ব্যস্ত ক্যালেন্ডারের মাঝেও এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। জেলার শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর আয়োজিত ইফতার মাহফিল এক ব্যতিক্রমী মিলনমেলায় রূপ নেয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন যেন পরিণত হয় ‘এক ছাদের নিচে পুরো নারায়ণগঞ্জ’-এর প্রতিচ্ছবিতে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড–এর কনভেনশন হলে আয়োজিত এই ইফতারে জেলার চার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিসহ ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের বিশিষ্টজনরা অংশ নেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু শুরু থেকেই ছিলেন পুরো আয়োজনের কেন্দ্রে। তবে আনুষ্ঠানিক সভাপতির আসনে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি নিজেই অতিথিদের স্বাগত জানান। একে একে আগতদের সঙ্গে করমর্দন, কোলাকুলি এবং কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি যে আন্তরিকতার পরিচয় দেন, তা উপস্থিতদের দৃষ্টি কাড়ে।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ পথেই সবাইকে বরণ করে নেন সভাপতি দিপু ভূঁইয়া। অতিথিরা যখন নিজ নিজ আসনে বসেছেন, তখনও থেমে থাকেননি তিনি। টেবিল ঘুরে ঘুরে খোঁজখবর নিয়েছেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এমনকি আজান শুরুর মূহুর্তেও অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় গিয়েও সবার খোঁজ খবর নেন। এসময় অনেকেই স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মোবাইলে ছবি তুলেছেন, সেলফিতে অংশ নিয়েছেন। একজন সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতির এমন সহজ-সরল উপস্থিতি ইফতারের আবহে আলাদা উষ্ণতা যোগ করে।
ইফতারে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম (নারায়ণগঞ্জ-৫), আজহারুল ইসলাম মান্নান (নারায়ণগঞ্জ-৩) এবং আব্দুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ-৪)। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিজিত প্রার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নেন। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতাদের একই টেবিলে বসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইফতার করতে দেখা যায়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এবং র্যাটব-১১ এর অধিনায়ক এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও ইফতারে অংশ নেন। প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমাজের এমন সমন্বিত উপস্থিতি জেলার চলমান উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা ও ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন উপস্থিত ছিলেন। মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার, জামায়াত নেতা মাওলানা মাঈনউদ্দিন আহমদ এবং খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুনও যোগ দেন ইফতারে।
রাজনীতি ও ব্যবসায়ী মহলে আলোচিত নাম কাজী মনিরুজ্জামানের উপস্থিতিও অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাকে স্বাগত জানান আয়োজকসহ অন্যান্য অতিথিরা। এ নিয়ে আয়োজনে এক ধরনের কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ। রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা মতপার্থক্যের বাইরে গিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা হয় বিভিন্ন টেবিলে।
ইফতার মাহফিলকে ঘিরে অনেকে মন্তব্য করেন, এমন আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ব্যবসায়ী সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে নির্বাচনের পর ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদের একই ছাদের নিচে দেখা যাওয়াকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, চেম্বারের এই ইফতার শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল জেলার সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার এক প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, প্রাধান্য পেয়েছে পারস্পরিক সৌজন্য ও সহাবস্থান।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..
এক ক্লিকে বিভাগের খবর