দুর্দিনের কাণ্ডারি টিপু, তৃণমূল চায় এই ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা যখন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল, মামলার পর মামলায় যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন অনেক নেতাকর্মী, সেই ঘোর দুর্দিনে মাঠ ছেড়ে যাননি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। বরং প্রতিটি সংকটে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের মনোবল ধরে রেখেছেন এবং দলের আদর্শের প্রতি অবিচল থেকেছেন। এই অদম্য লড়াকু মানুষটির যথাযথ মূল্যায়ন এখন দাবি করছেন নারায়ণগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করা অ্যাডভোকেট টিপু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। পেশায় আইনজীবী হলেও তিনি কখনো আদালতপাড়ার নিরাপদ গণ্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি। দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি মাঠে থেকেছেন। মহানগরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছুটে গেছেন, তৃণমূলের কর্মীসভায় নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দলকে সংগঠিত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির অন্য নেতাকর্মীদের মতো অ্যাডভোকেট টিপুকেও চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বিএনপির অবরোধ-হরতাল কর্মসূচির সময় মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে তিনি গ্রেফতার হন। সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটিতে। সব মিলিয়ে যার মামলা সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তবু তিনি দমে যাননি, রাজপথ ছাড়েননি।
নিজেই এক বক্তব্যে অ্যাডভোকেট টিপু জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। হামলা-মামলায় জর্জরিত ছিলেন, তবুও রাস্তা ছাড়েননি। যখন অনেকেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছিলেন, তখনও তিনি মাঠে থেকেছেন নেতাকর্মীদের সাহস দিতে, সংগঠিত রাখতে। এই ত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি ছিল দলের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
আগস্ট ২০২৪ সালে সরকারের পতনের পর অ্যাডভোকেট টিপু আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মীসভা পরিচালনা করেছেন, বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের কর্মসূচি নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়েছেন এবং নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করেছেন। বন্দর থানার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা পর্যন্ত তাঁর সাংগঠনিক তৎপরতা সকলের নজর কেড়েছে।
শুধু দলীয় কাজে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও অ্যাডভোকেট টিপু ব্যতিক্রমী। নারায়ণগঞ্জের পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কথা তিনি ভুলে যাননি। এই মানবিক দিকটি তাঁকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার গণ্ডি পেরিয়ে একজন প্রকৃত সমাজসেবকের মর্যাদা দিয়েছে।
দলের ভেতরেও টিপু সুবিধাবাদীদের ব্যাপারে আপস করেননি। দুঃসময়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া নেতারা ক্ষমতার পালাবদলে ফিরে এসে মনোনয়ন দাবি করতে শুরু করলে তিনি সরাসরি প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর সাফ কথা যারা দলের দুঃসময়ে জেল খাটেনি, হামলা-মামলা সহ্য করেনি, তারা উড়ে এসে জুড়ে বসতে পারে না। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অধিকার নিয়ে এই সাহসী অবস্থান তাঁকে তৃণমূলের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, এই মুহূর্তে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর মতো নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন হওয়া জরুরি। যারা আন্দোলনের মাঠে রক্ত-ঘাম ঢেলেছেন, বারবার কারাবরণ করেছেন, মামলার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছেন তাঁদের ত্যাগের স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতের কর্মীরা অনুপ্রেরণা হারাবেন। দুর্দিনের এই কাণ্ডারিকে যথাযথ মূল্যায়ন দেওয়ার সময় এসেছে এটাই এখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূলের প্রাণের দাবি।








আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...